kalerkantho


সাতকানিয়া রাস্তার মাথা-বাঁশখালী গুনাগরী সড়ক

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে সড়ক উন্নয়ন, জনদুর্ভোগের আশঙ্কা

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)   

১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে সড়ক উন্নয়ন, জনদুর্ভোগের আশঙ্কা

সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘সড়কটির প্রশস্ততা কম হওয়ায় সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার আগেই সওজকে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। জুমা মসজিদ থেকে ডলুব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় আরসিসি ড্রেন করে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। এতে ড্রেনের ওপর দিয়ে যথারীতি গাড়ি চলাচল করতে পারত। কিন্তু সওজ তা করেনি।’

 

সাতকানিয়ায় নালা ভরাট করে কোনো ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী। তবে সড়কটি খুব বেশি সরু হওয়ায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সওজ। দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সাতকানিয়া রাস্তার মাথা-গুনাগরী সড়কের পৌরসভাস্থ সাতকানিয়া জুমা মসজিদ থেকে ডলুব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করতে গিয়ে এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে বাঁশখালী গুনাগরী পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো ধরনের সংস্কারহীনভাবে পড়েছিল। ফলে সড়কের বেশির ভাগ জায়গায় বিটুমিন ওঠে গিয়ে অসংখ্য খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়ে অনেক আগেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। সড়কের কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছিল বিশালাকৃতির গর্ত। এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে চরমভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হত জনসাধারণকে। অবশেষে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাংসদ ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর প্রচেষ্টায় সড়কটি সড়কটি সংস্কার, প্রশস্তকরণ, কালভার্ট নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও কার্পেটিংয়ের কাজের জন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়। ইতোমধ্যে সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে, সড়কের সাতকানিয়া জুমা মসজিদ থেকে ডলুব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করতে গিয়ে আগেকার ছোট নালাটি ভরাট করে ফেলেছে। আর নতুনভাবে কোনো ড্রেনও নির্মাণ করা হচ্ছে না। ফলে সড়কের দুই পাশে থাকা সতিপাড়ার বাসিন্দারা পানি নিষ্কাশন নিয়ে বেকায়দায় পড়ে যায়। বৃষ্টির পানির পাশাপাশি নিত্য ব্যবহার্য পানি নিষ্কাশনের জন্যও কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সড়কের দুই পাশে থাকা কয়েক শত পরিবার স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার শিকার হবে। জনসাধারণের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার পূর্বে সড়কের পাশে আরসিসি ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে চিঠি দিয়েছিলেন সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কের পাশে ড্রেন করার মতো কোনো ধরনের ব্যবস্থা না রেখে সড়কটি আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করে যাচ্ছে।

সাতকানিয়া পৌরসভার বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাস্টার ফরিদুল আলম জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। কারণ সড়কের দুই পাশে থাকা কয়েক শত বসতবাড়ির ব্যবহারের পানি এবং বর্ষায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। ড্রেন না থাকাতে এখানকার মানুষকে স্থায়ীভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তবে সড়কটি সরু হওয়ায় ড্রেন করার মতো জায়গাও নেই।

সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘সড়কটির প্রশস্ততা কম হওয়ায় সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার পূর্বেই আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিকট চিঠি পাঠিয়েছিলাম। আমরা তাদেরকে জুমা মসজিদ থেকে ডলুব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় আরসিসি ড্রেন করে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। তখন ড্রেনের ওপর দিয়ে যথারীতি গাড়ি চলাচল করতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত বরাদ্দ হয়েছে। ১৮ ফুট কাজ করলে পাশে খুব বেশি জায়গা থাকে না। ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়। ছোট পরিসরে হলেও আমরা ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দেব।’

দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফায়েল মিয়া জানান, সাতকানিয়া-রাস্তার মাথা থেকে বাঁশখালীর গুনাগরী পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই, কার্পেটিংসহ উন্নয়নের জন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রাপ্ত বরাদ্দে কোথাও ড্রেন ধরা নাই। সড়কের সাতকানিয়া জুমা মসজিদ থেকে ডলুব্রিজ পর্যন্ত এলাকাটি বেশ নিচু ছিল। ফলে সংস্কার কাজ করলেও টিকত না। নিচু হওয়ায় এবং পানি জমে থাকার ফলে সংস্কার করলেও দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতো। এছাড়া সড়কটি বেহাল অবস্থা ছিল। পরে ড. আবু রেজা

মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপির প্রচেষ্টায় সড়কটি উন্নয়নের জন্য ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘সড়কের পাশে আরসিসি ড্রেন করার জন্য সাতকানিয়া পৌরসভা থেকে আমাদের নিকট চিঠি পাঠিয়েছিল। আমরাও সেভাবে চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু সড়কটি অতিমাত্রায় সরু হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।’

তোফায়েল মিয়া বলেন, ‘সড়কটি ১৮ ফুট টেন্ডার হলেও জুমা মসজিদ থেকে  ডলুব্রিজ পর্যন্ত এলাকার মধ্যে কয়েকটি স্থানে ১৮ ফুটও নেই। লোকজন খুশিতে জায়গা ছেড়ে না দিলে আমরাতো আর জোর করে নিতে পারব না। যতটুকু আছে ততটুকুতে কাজ করব। আর ড্রেন করা নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। গত কয়েকদিন আগে এমপি মহোদয় সরেজমিন গিয়ে বিষয়টি দেখেছেন। দেখার পর তিনিও আমাদের বলেছেন, আপাতত আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করে ফেলার জন্য। পরবর্তীতে ড্রেনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

 



মন্তব্য