kalerkantho


সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান রাউজানের অনেক নারী

জাহেদুল আলম রাউজান (চট্টগ্রাম)   

৬ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান রাউজানের অনেক নারী

রাউজানের অনেক নারী সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান। আসন্ন ঈদ ঘিরে তাঁদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। পুরোদিন খাটুনির পর রাত জেগেও কাজ করতে হচ্ছে।

এসব নারীর কেউ পরিবারের অভাব-অনটন ঘুচাতে, কেউ স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে, কেউ সংসারের বাড়তি আয়ের চিন্তা থেকে কিংবা আত্মনির্ভরশীল হতে দর্জির কাজ করেন।

কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে আত্মনির্ভরশীল নারী শেলী দে। তিনি উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাটের নিউ সতীশ মার্কেটের মা-মনি লেডিস টেইলার্সের মালিক। তাঁর দোকানে শুধুই নারীরাই সেলাইকাজ করেন। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে তাঁর দোকানে ব্যস্ততা অনেকখানি বেড়ে গেছে। ১০ জন নারীকর্মী আছেন তাঁর প্রতিষ্ঠানে। পথেরহাটে আছে শো-রুম। তবে নারীকর্মীরা সেলাই কাজ করেন আলাদা একটি জায়গায়। শেলী দে বলেন, ‘আমার দোকানে সেলোয়ার কামিজ, ব্লাউজ, পেটিকোট, গাউন, লেহেঙ্গা, ঘাগরা, ম্যাকি্রসহ নানা পোশাক সেলাই করা হয়। স্বাভাবিক সময়গুলোতে রাত ৯টা পর্যন্ত সেলাইকাজ চলে। তবে ঈদের মৌসুম শুরু হওয়ার পর অর্ডার অনেক গুণ বেড়ে গেছে। এ কারণে রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত নির্ঘুম থেকে কাজ করতে হচ্ছে আমাদের।’

তিনি জানান, সেলাইয়ে অন্যসময় থেকে ঈদের মৌসুমে একটু বাড়তি দাম নেওয়া হয়।

শেলী দে বলেন, ‘অন্যবার ঈদের দুই মাস আগে থেকে কাজের চাপ বাড়লেও এবার আগের তুলনায় কম। এ বছর চাপটা অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে।’ তাঁর দোকানে যাঁরা কাজ করেন তাঁর হলেন, রুবিনা, নেলী, নাহিদা, ববি, পারভিন, ডলি, কিচমা, রুবি ও নাজু। তাঁদের মধ্যে কেউ রয়েছেন বিবাহিত, কেউ অবিবাহিত। জানালেন, তাঁদের অনেকেই সংসারের অভাব ঘুচাতে এবং আত্মনির্ভরশীল হতে এ পেশায় এসেছেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়তি আয় তাদের সংসারের বাড়তি খরচ কিছুটা হলেও মেটে।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, শেলী দে পুরোদস্তর টেইলার মাস্টার। তিনি দীর্ঘদিন কাজ শিখে ২০০১ সাল থেকে পথেরহাটের বিভিন্ন দর্জির দোকানে চাকরি করেন। ৬ বছর আগে পথেরহাটেই মা মনি লেডিস টেইলার্স নামে একটি দোকান দেন। এ অঞ্চলের নারীদের কাছে তাঁর দোকানটির বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তিনি জানান, তাঁর দোকানে এখন যাঁরা নারীকর্মী রয়েছেন, তাঁদের প্রায় সবাইকে তিনি দর্জির কাজ শিখিয়ে এখানে কাজ দিয়েছেন। শুধু এ ১০ জন নয়, তিনি এ পর্যন্ত তিন শতাধিক নারীকে এ কাজ শিখিয়ে আত্মনির্ভরশীল করেছেন।

এ প্রসঙ্গে শেলী দে জানান, কাজ শিখে অনেক নারী বিভিন্ন দোকানে কাজ করছেন, কেউ ঘরে বসেও কাজ করছেন। আবার কেউ আছেন, যাঁরা শখের বসে কাজ শিখেছেন। কাজ শিখে দুয়েকজন দোকানও খুলেছেন। কাজ শেখানোর বিনিময়ে কিছু ফি নিলেও তা সামান্য। আবার অনেকে তা না দিলেও কাজ শিখিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, শেলীর স্বামী একসময় ব্যবসা করতেন, এখন চাকরি করেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের মা শেলী। বলেন, ‘সংসারের বেশির ভাগ খরচ আমাকে বহন করতে হয়। এ দোকানের ওপরই আমার সংসার চলে।’

আমীর মার্কেটের মায়ের দোয়া টেইলার্সে গিয়ে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে ভীষণ ব্যস্ত এ দোকানের নারীকর্মীরা। দোকানের মালিক মো. এসকান্দর জানান, তাঁর দোকানে নারী কর্মচারী আছেন চারজন। এঁরা হলেন নাছমিন, রোজি আকতার ও লায়লা। তবে দোকানটি শুধু নারী দিয়ে পরিচালিত হয় না। এখানে পুুরুষ দর্জিও রয়েছেন। অন্য মৌসুমে প্রতিনারী ৬ হাজার টাকা আয় করতে পারলেও ঈদের মৌসুমে একেকজন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে আয় করেন।

এসকান্দর বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে আমার দোকানে কাজ বেড়েছে রমজানের ১৫ দিন আগ থেকে। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত অর্ডার নেওয়া হয়েছে। নারীকর্মীরা এখানে কাজ করেন রাত ৯টা পর্যন্ত।’

ভারতেশ্বরী প্লাজার বড় শো-রুম টপটেন টেইলার্সে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দম ফেলার ফুসরত নেই পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারীকর্মীদেরও। এই দোকানের স্বত্বাধিকারী দীপু ঘোষ জানান, তাঁর দোকানে তিনজন মহিলা কর্মী ও সাতজন পুরুষ কর্মী রয়েছেন। কেউ বেতনভুক্ত, কেউ প্রোডাক্টসনের উপর কাজ করছেন।

ঈদের ব্যস্ততার কারণে নারীরা রাত ৮-৯টা পর্যন্ত কাজ করেন। তবে রাত ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা হয়।

দর্জির দোকানে কাজ করেন এমন একজন নারীকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘স্বামীর আয়ে সংসার চলে না। এ জন্য সেলাইয়ের কাজকে পেশা

হিসেবে নিয়েছি। তাছাড়া ঈদের সময় সংসারের বাড়তি খরচ মেটাতে হয় এ দর্জির কাজ করে। সবচেয়ে বড় কথা শালীনতার মধ্যে কাজ করা যায়।’   

... কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে আত্মনির্ভরশীল নারী শেলী দে। তিনি রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাটের নিউ সতীশ মার্কেটের মা-মনি লেডিস টেইলার্সের মালিক। তাঁর দোকানে শুধুই নারীরাই সেলাইকাজ করেন। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে তাঁর দোকানে ব্যস্ততা অনেকখানি

বেড়ে গেছে ...

 



মন্তব্য