kalerkantho


ভাঙাচোরা সড়কে সীমাহীন ভোগান্তি

খালেদা জিয়া সড়কের এ কী হাল!

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

৬ জুন, ২০১৮ ০০:০০



খালেদা জিয়া সড়কের এ কী হাল!

ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া সড়ক

ফেনীর কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে লোক ও যান চলাচলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। এলাকাবাসীর মতে, এসব সড়কে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। তাঁরা সত্বর সড়কগুলো সংস্কারের দাবি করেন।

ফুলগাজীতে খালেদা জিয়া সড়ক সংস্কার হয়নি ৬ বছরে

কোথাও সড়কে গর্ত হয়ে এবড়োখেবড়ো দশা, কোথাও সড়ক ভেঙে গেছে। ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া সড়কের চিত্র এটি। এ সড়কের ২ কিলোমিটার পার হতে ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয় ৮ কিলোমিটার। এনিয়ে ৯ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের অদূরে ফেনী-পরশুরাম সড়কের গাইনবাড়ি নামক স্থান থেকে গাবতলা ও কামাল্লা গ্রাম পর্যন্ত খালেদা জিয়া সড়ক। এ সড়ক দিয়ে সদর ইউনিয়ন ও মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সীমারেখা দিয়ে করইয়া-কালিকাপুর হয়ে বাসুড়া, বিজয়পুর, বদরপুর, মান্দারপুর, ফকিরখীল, গাবতলা, কামাল্লা গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং কয়েক ধাপে বন্যায় খানাখন্দে ভরে যায় সড়কটি। এতে করে দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে নোয়াপুর শেখ নুরুল্লা সড়ক হয়ে মুন্সিরহাট পর্যন্ত উপজেলা সদরে যেতে ৮ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। ২টি স্কুল, ৩টি মাদরাসা, ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। ছোট-বড় গর্ত মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে অসহ্য যন্ত্রণা পোহাতে হয়। দুয়েকটি রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে হেলেদুলে। বন্ধ হয়ে গেছে টমটম চলাচল। ওই সড়কের বেশির ভাগ স্থানে কার্পেটিং ওঠে ইটের খোয়া বেরিয়ে আছে। অনেক স্থানে সড়কের পাশ ভেঙে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৬ বছর আগে সড়কটি দুই বার সংস্কার করা হয়েছে। গত বর্ষার আগে এলাকাবাসী উপজেলা সদরে ধর্না দিয়ে কিছু ইট-সুরকি ও বালু দিলেও পরবর্তীতে বৃষ্টিতে তা ভেসে যায়।

মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ সাদী মজুমদার জানান, সড়কটি ভাঙাচোরা হওয়ায় ৮-১০ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ও লেগে যায়।

 

সোনাগাজী-সোনাপুর সড়ক

সোনাগাজীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলাফেরাই দায়

ফেনী-সোনাগাজী সড়কসহ এ উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ভেঙেচুরে একাকার। বহুদিন ধরে এসব সড়কে সংস্কার হয়নি। ফলে এগুলো চলাচলের অনুপোযুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব সড়কে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার পর্যন্ত হচ্ছেন।

সূত্র মতে, এ উপজেলায় ৬৩১ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৪১১ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। ১২৮ কিলোমিটার সড়ক পাকা ও ২৮ কিলোমিটার সড়কে ইট বিছানো (ব্রিক সলিং) রয়েছে। উপজেলার প্রধান সড়কগুলোর মধ্যে ৩৭ কিলোমিটার সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। বাকি ৫৯৪ কিলোমিটার এলজিইডির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। উপজেলার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের মধ্যে রয়েছে ফেনী-সোনাগাজী সড়ক, সোনাগাজী-মুহুরী রেগুলেটর সড়ক, বক্তারমুন্সী-কাজীরহাট সড়ক, সোনাগাজী-ওলামা বাজার সড়ক, ভৈরব চৌধুরী হাট-মতিগঞ্জ সড়ক, সোনাপুর-নবাবপুর সড়ক, সোনাগাজী-বহদ্দারহাট সড়ক, মতিগঞ্জ-ভোরবাজার সড়ক, কুটিরহাট-চিন্তারপুল সড়ক, কুটিরহাট আবু বকর সড়ক, চরগণেশ জিপি এনামুল হক সড়ক, নজরুল প্রাইমারি থেকে ভূঞা বাড়ি সড়ক, নুরুল হক ফরায়েজী সড়ক।

সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবু তাহের বলেন, ‘সোনাগাজী-সোনাপুর সড়কে বহুদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বেহাল অবস্থা। এ সড়কে চলাচলই দায় হয়ে পড়েছে।’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল আনাম বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কের সংস্কার কাজ সহসা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।’

সোনাগাজী পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, পৌর এলকার সড়কগুলোতে নিয়মিত সংস্কার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

 

দাগনভূঞা পৌর এলাকার দাসপাড়া সড়ক

দাগনভূঞার সড়কগুলোর বেহাল দশা

দাগনভূঞা পৌর এলাকার দাসপাড়া সড়কসহ কয়েকটি সড়কের একেবারেই জীর্ণদশা। এসব সড়কে চলাচল করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে।

রহিম উল্যাহ নামের এক রিকশাচালক বলেন, ‘আমরা কয়েকজন রিকশাচালক দাগনভূঞা জিরো পয়েন্ট বা বাসস্ট্যান্ড থেকে ফাজিলের ঘাট সড়ক হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু ওই দাসপাড়া সড়কটি এতোই ভাঙাচোরা যে রিকশা চালানো মারাত্মক দুরুহ ব্যাপার। এ সড়কে প্রায়শই ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।’ তিনি জানান, গত তিন বছরে এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কোনো সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি।

সম্প্রতি দাগনভূঞা পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সড়কই চলাচলের অনুপযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়কে কোন উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। স্থানে স্থানে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসীকে পোহাতে হয় দুর্ভোগ। বর্ষায় পানি জমে গর্তগুলো দেখা যায় না। ফলে চলাচলে ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। পৌর এলাকায় ডা. হারাধনের বাড়ির সড়ক, খেজুর গাছতলা-উত্তর শ্রীধরপুর সড়ক, কালভার্টের পাশে হাজি ক্লিনিকের পেছনের সড়ক , মাজার সড়ক, আইয়ুব আলী ড্রাইভার বাড়িসংলগ্ন সড়ক, সবুজের বাড়ির সড়ক, উত্তর শ্রীধরপুর মসজিদ সড়ক, সিদ্দিকুর নেছা স্কুল সড়ক, ইমান আলী হাজী সড়ক, সুদ্রুবাড়ি সড়ক, বেতুয়া সড়ক, দাসপাড়া সড়ক, প্যান্টাগন হাসপাতাল সড়ক, দোস্ত মোহাম্মদ ভূঞা বাড়ি সড়ক, ফারুক মিয়ার বাড়ির সড়ক, হাজী জাফর মিয়ার বাড়ির সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। 

এসব বিষয়ে পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান বলেন, ‘কিছু কিছু সড়কে উন্নয়নকাজ চলছে। বাকিগুলোও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বহুদিন পর্যন্ত এসব সড়কে সংস্কার না হওয়ায় মানুষের কষ্ট হচ্ছে-স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সড়কগুলো মেরামত

হয়ে গেলে ভোগান্তি দূর হয়ে যাবে।’ ফেনীস্থ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদ উল্যাহ পাটোয়ারী বলেন, ‘ফেনী এলজিইডির অধীন বেশ কয়েকটি সড়কের সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

 



মন্তব্য