kalerkantho


তিন মাস ধরে বন্ধ সিট্রাক

ঝুঁকি নিয়ে হাতিয়ায় যাতায়াত ঈদযাত্রায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

সামসুল হাসান মীরন, নোয়াখালী   

৬ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ঝুঁকি নিয়ে হাতিয়ায় যাতায়াত ঈদযাত্রায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

নোয়াখালী জেলা সদরের সঙ্গে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার যাতায়াতের একমাত্র নৌপথে বৈধভাবে যাত্রী পারাপারে বাহন সিট্রাক দীর্ঘ তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা অন্য নৌযানে চলাচল করছেন। বর্তমানে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা নদীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মধ্যেও স্পিডবোট, কাঠের ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দিয়ে বিক্ষুব্ধ মেঘনা নদী পার হচ্ছেন। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে সাধারণ যাত্রীদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালী জেলা সদরে দক্ষিণ প্রান্ত চেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়া দ্বীপের নলচিরা-তমরুদ্দি ঘাটের যাত্রীবাহী দুটি সিট্রাক বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে যেমন ঝুঁকি নিয়ে নারী, শিশুসহ সববয়সী মানুষ যাতায়াত করছে অন্যদিকে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হয়।

যাত্রীসহ স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ, সিট্রাক ঘাটের স্পিডবোট ও কাঠের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার মালিকেরা তাদের ব্যবসা করতে সিট্রাক নষ্ট করে দিয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।। যাত্রীরা তাঁদের দুর্ভোগ প্রশাসনের কাছে একাধিকবার জানালেও আমলে নেননি কেউ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া উপজেলার ওই ঘাটগুলো বিআইডব্লিউটিএ দুটি রুটে তিনটি ঘাট প্রতিবছর ইজারা দিয়ে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। ইজারাদারকে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা-তমরুদ্দি এ দুটি রুটে দুটি যাত্রীবাহী সিট্রাকসহ চালক মাস্টারকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে শহীদ আবদুর রব সেরানিয়াবত চেয়ারম্যানঘাট-চরচেঙ্গা-তমরুদ্দি রুটের জন্য অপরটি শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা রুটে চলাচল করত।

শহীদ আবদুর রব সেরানিয়াবত দীর্ঘ ৯ মাস ধরে এবং চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা রুটে দীর্ঘ তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মূল কারণ এগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো। মেরামত করা হলেও তা আবার নষ্ট হয়ে পড়ে।

এ সুযোগে ইজারাদার সিট্রাক বিকল থা্কায় প্রতিদিন যাত্রীবাহী ৭টি স্পিডবোট, ৪টি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করছে। সিট্রাকের জনপ্রতি ভাড়া ৯০ টাকা। অপরদিকে, স্পিডবোট ৪০০ টাকা ও ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটে ১৫০ টাকা সাধারণ যাত্রীদের থেকে আদায় করা হয়। ব্যবসা বৃদ্ধি করতে ইজারাদারের কর্মচারীরা সিট্রাক দুটি সুকৌশলে নষ্ট করে দেয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করলেও ইজারাদার তা অস্বীকার করেছেন। স্পিডবোটে বিধি বহির্ভূত ৪০০ টাকা এবং ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটে ১৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়।

যাত্রীর জানান, সিট্রাকে যাত্রীরা নিরাপদে, কম ভাড়ায় নদী পারাপার হতে পারে। অপরদিকে যাত্রীবাহী স্পিড বোটগুলো বিধি লঙ্ঘন করে জনপ্রতি ৪০০ টাকা ও কাঠের বোটে ১৫০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নদী পারাপার হতে হয়।

চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর সিট্রাকের চালক মাস্টার আফজাল হোসেন বলেন, ‘সিট্রাক দুটি প্রায় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তবে কী কারণে এ অবস্থা তা আমার জানা নেই।’ তবে সিট্রাক দুটি নারায়ণগঞ্জ ডকে মেরামত করতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।    

ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজল তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই ঘাটে অনেকেরই ব্যক্তিগত স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট রয়েছে। তাঁরা এটি চালান। ঘাটের ম্যানেজারসহ কর্মচারীরা ভাড়া কত আদায় করছে তা আমার জানা নেই।’

তিনি ইজারা নিয়ে সিট্রাক বিকল থাকার পরও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনকে ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা এটি মেরামত করতে দেরি করায় তিনি নিজ খরচে শহীদ ফজলুল হক মনি মেরামত করছেন। আশা করছেন ঈদের আগে চলতে পারবে। 

এদিকে চেয়ারম্যান ঘাটের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল হুদা জানান, ওই দুই রুটে সিট্রাক দুটি বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট ও স্পিডবোটে চলাচল করছেন।

মেঘনা নদীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার অবস্থায় ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট ও স্পিডবোটে যাত্রীদের চলাচল করতে বিরত রাখা হয়। তবু যাত্রীরা নিজেদের প্রয়োজনে ট্রলারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেন। নিষেধ করা হলেও তাঁরা মানেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বরত ডিজিএম গোপাল চন্দ্র মজুমদার সিট্রাক দুটি বর্তমানে অচল থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এর মধ্যে একটি নারায়ণগঞ্জে এবং একটি চট্টগ্রামে মেরামত করা হচ্ছে। খুব সহসা এগুলো চলাচল করতে পারবে বলে তিনি আশা করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (ডিজিএম প্যাসেঞ্জার) শেখ মোহাম্মদ নাছিম বলেন, ‘সেখানে চলাচলকারী দুটি সিট্রাকের তলা ফুটো হয়ে গেছে। এগুলো মেরামত করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এর মধ্যে ইজারাদারকে আমরা বলেছি তাঁরা নিজেদের অর্থে এটি মেরামত করে নিতে। মেরামতের টাকা আমরা দেব না। তবে ওই সময়কালীন কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না। আশা করছি, ঈদের আগে এগুলো সচল হবে। এছাড়া শহীদ আবদুর জব্বার নামে আরো একটি সিট্রাক আমরা ঈদের আগে সেখানে মেরামত করে পৌঁছাব। যাতে ঈদে যাত্রীদের কোনো অসুবিধা না হয়।’

 

 



মন্তব্য