kalerkantho


‘সাংস্কৃতিক সংগঠন বাড়ছে কমছে কাজের জায়গা’

৩০ মে, ২০১৮ ০০:০০



‘সাংস্কৃতিক সংগঠন বাড়ছে কমছে কাজের জায়গা’

কিশোয়ার জাহান চৌধুরী। ডাকনাম তুলি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী। অনার্সের ফলাফলে ৩.৮৩ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে দেশ-বিদেশের একাধিক একাডেমিক পুরস্কার। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত তিনি। লিখেছেন : মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় তুলির বাপ-দাদার ভিটেমাটি হলেও তুলি জন্মস্থান ও বেড়ে উঠা চট্টগ্রাম নগরে। বাবা মোহাম্মদ রবিউল হোসেন চৌধুরী ব্যবসায়ী এবং মা সোহেলা আকতার চৌধুরী গৃহিণী।

দুই ভাই-বোনের মধ্যে তুলি ছোট। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিবারের ইচ্ছায় নগরের প্রমা আবৃত্তি সংগঠনে তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে ভালোবাসার সংগঠনে এক যুগ ধরে আছেন। সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে যেমন একনিষ্ঠ তেমনি  পড়ালেখায়ও। অনার্সের ফলাফলে বিভাগে ৩.৮৩ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন তিনি।

তুলি ২০০৮ সালে নগরের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১০ সালে সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

আবৃত্তি সংগঠন ‘প্রমা আবৃত্তি সংগঠন’ থেকে আবৃত্তির পথে যাত্রা শুরু করে এখনো ওই সংগঠনের সঙ্গেই আছেন। দলীয়, একক আবৃত্তি করেছেন চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি, ডিসি হিল ও সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও। উপস্থাপনাও করেন সমানে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তাঁর উপস্থাপনা সবার নজর কাড়ে।

রোমান্টিক, বিদ্রোহ-সংগ্রামী কবিতা তাঁর বেশি পছন্দ। মহাদেব সাহা, রবীন্দ্রনাথ, সৈয়দ শামসুল হক ও শুভ দাশগুপ্তের কবিতার ভক্ত। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আগরতলার  কবিতা সংগঠনের আমন্ত্রণে এবং ভুবেনশ্বরী টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে একক ও দলীয়ভাবে আবৃত্তি করেন তুলি।

জানতে চাইলে তুলি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন হচ্ছে। কিন্তু কাজ করার বা প্রকাশ করার জায়গা কমে যাচ্ছে। শুধু শিল্পকলায় সম্মিলিত অনুষ্ঠানগুলো বড় পরিসরে করা হচ্ছে। ডিসি হিলের মতো জায়গায় এখন আর আগের মতো কাজ করা যাচ্ছে না। ডিসি হিলে বছরে প্রশাসন হাতেগোনা কয়েকটি অনুষ্ঠান করার জন্য অনুমতি দেয়।’

নতুনদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন অনেকে আসে নিজেকে শো-আপ করতে। যতটা না কাজ করে তার চেয়ে বেশি ফেসবুকে প্রচার চালাতে ব্যস্ত। কিন্তু এ মন-মানসিকতা থাকলে তো ভালো ভাবে কাজ শেখা হয় না এবং নিজেদের স্কিলটাও উন্নত হয় না।’

জানা গেছে, কিশোয়ার জাহান চৌধুরী তুলি ২০১৭ সালে বান্দরবান অঞ্চলে মাসব্যাপী তুলা উন্নয়ন বোর্ডে ইন্টার্নশিপ করেন। গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে।

কর্মশালা, সেমিনার-সম্মেলনেও দিয়েছেন অনেক সময়। ২০০৯ সালে রসায়ন অলিমিপয়াড, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত ১ম ও ২য় জাতীয় সম্মেলন (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, চট্টগ্রাম আয়োজিত), ২০১৪ সালে ‘লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট’ ও ২০১৫ সালে ‘মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট বুট ক্যাম্প’ (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রণালয় আয়োজিত) ও বাংলাদেশ ৩য় ‘রিসার্চ মেথডলজি’ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। আরো অংশ নেন ২০১৬ সালে ‘গুড গভর্নেন্স অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ওয়ার্কশপ’ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ঢাকা আয়োজিত), ইযুথ লিডারশিপ, লিডারশিপ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লিডারের দায়বদ্ধতার ওপর কর্মশালা (লিও জেলা কাউন্সিল, ৩১৫ বি ৪, বাংলাদেশ আয়োজিত)। ২০১৭ সালে নাসার সেপস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ক্যামপ, যুব শিবির, শীতকালীন স্কুল ও উৎসব : ইন্টারন্যাশনাল লিও যুব ক্যামেপ (২০০৮-২০১৭) অংশগ্রহণ করেন তুলি। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরস, কর্ণফুলী রেজিমেন্টের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। জাতীয় আবৃত্তি উৎসব, ২০১১ এবং বিবিসি রেডিওর একটি রেডিও ‘চাইলেই পারবেন’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অন্যদিকে তিনি থিয়েটার দল ‘অনাদিকল্প’ এর সদস্য, ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অব এনভায়রনমেন্ট সভাপতি, একুশে রক্তের আহ্বান এর সদস্য, জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘অভয়ারণ্য’ এর সদস্য  ও  আন্তর্জাতিক  যুব সংগঠন লিও জেলা ৩১৫ বি ৪ এর কেবিনেট সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার হিসেবে কোন পেশা নেওয়ার ইচ্ছা জানতে চাইলে কিশোয়ার জাহান চৌধুরী তুলি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা আছে।

কারণ পরিবেশের বায়ু, পানি ও মাটি আমাদের অস্তিত্বে মিশে আছে। আর এ পরিবেশ নিয়ে দেশ-বিদেশে কাজ করে অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।’

এক নজরে একাডেমিক পুরস্কার : ২০১৭-১৮ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফেলোশিপ, ২০১৭ সালে জাপান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা থেকে বিজ্ঞানে জাপান-এশিয়া ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম পুরস্কার, ২০১৭ সালে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এলসিএ পুরস্কার, ২০১৬ এবং ২০১১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি, ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ বৃত্তি, ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জিপিএ-৫ রিসেপশন, ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বোর্ডে ইন্টারমিডিয়েট এবং মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড স্কলারশিপ।



মন্তব্য