kalerkantho


নোয়াজিষপুরের বাতিঘর

অদুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

৩০ মে, ২০১৮ ০০:০০



অদুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়

রাউজান উপজেলার নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের অনেক কার্যক্রম উপজেলার মানুষদের কাছে আড়ালেই থাকে। শিক্ষাক্ষেত্রে এখানকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নানা কর্মকাণ্ড, শিক্ষার অগ্রগতিতে এই বিদ্যাপীঠ এখন উপজেলার ৫৪ স্কুলের জন্য একটি মডেল বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। অজ পাড়াগাঁয়ে ছায়াঢাকা পরিবেশে অবস্থিত স্কুলটির নাম ফতেনগর নোয়াজিষপুর অদুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।

ম্যানেজিং কমিটির সুদক্ষ পরিচালনা, স্কুল শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, অভিভাবকদের অধিক সচেতনতা ও প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের ব্যাপক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি এখন উন্নতির অভূতপূর্ব শিখরে। এরই ধারাবাহিকতায় এ স্কুল এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাউজানের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। এসএসসিতে এ স্কুল থেকে অংশগ্রহণকারী ৫৯ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পায় ৪ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো সৌরভ নাথ, সফিউল্যাহ সাকিব, আকরাম হোসেন ও মাহামুদুল হাসান। ফলাফলের দিক থেকে চুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাড়া রাউজান উপজেলায় এখন সেরা এ প্রতিষ্ঠান। গেল জেএসসি পরীক্ষাতেও এ স্কুল শতভাগ সাফল্যে পেয়েছে।

জেএসসিতে ৯৩ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। সরকারি বৃত্তি পায় ৭ শিক্ষার্থী। নিয়মিত সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে এটি এখন স্কুল অ্যান্ড কলেজে রূপান্তরের পথে। ইতিমধ্যে এলাকার সংসদ সদস্য ফজলে করিম এ বিদ্যালয়কে কলেজ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ম্যানেজিং কমিটির পাশাপাশি প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ কাজ করছে। ২০১৭ সালে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে স্কুলের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সুবর্ণ জয়ন্তী।

সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে সেদিনই ঘোষণা করা হয় তাঁদের অর্থে স্কুলে গড়ে দেওয়া হবে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সুবর্ণ জয়ন্তী ভবন।’

যেই ঘোষণা সেই কাজ। বছর ঘুরতেই সম্পূর্ণ নির্মিত ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল জমকালো আয়োজনে সুবর্ণ জয়ন্তীর একবছর পূর্তির পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সুদৃশ্য ওই ভবন উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি।

ওই অনুষ্ঠানে ঘোষণা এলো, আরো একটি ভবন করা হবে। এটিও করবে সেই প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ। সেই ঘোষণার আলোকে এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর আহবানে অনুষ্ঠান মঞ্চেই প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের বিভিন্ন সদস্য চেক, নগদ ছাড়াও প্রায় কোটি টাকার আশ্বাস প্রদান করেন। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ‘বন্ধন’ নামের এই ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভবনের কাজ শেষ করার আশা করেছেন উদ্যোক্তারা।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির ৫ বার নির্বাচিত সভাপতি, বর্তমান প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভাপতি ও নোয়াজিষপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার্দী সিকদার বলেন ‘রাউজানে অনেক স্কুলে পুনর্মিলনী হয়েছে। কিন্তু প্রাক্তন ছাত্রদের অর্থে দুটি ভবন নির্মিত হয়েছে, এমন নজির আর কোথাও নেই। এটি ফতেনগর নোয়াজিষপুর অদুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি অনন্য অর্জন।’

স্কুল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের পাশাপাশি যাঁদের অব্যাহত সহযোগিতায় এ স্কুল অবকাঠামো, শিক্ষার মানোন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে, তাঁদের অন্যতম হলে, সাবেক ব্যাংকার ফরিদুল আলম চৌধুরী, শিল্পপতি বদরুল আলম চৌধুরী, শিল্পপতি অহিদুল আলম চৌধুরী, মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী ফরিদুল আলম, নুরুচ্ছাফা চৌধুরী, এস এম হাসান জাবেদ, আহসান হাবিব রুবেল এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার্দী সিকদার।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ শুধু দুটি ভবনই করেনি, তারা বিদ্যালয়ের গরিব মেধাবীদের সংবর্ধনা, বৃত্তি, পড়ালেখায় আর্থিক সহায়তাসহ নানা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিত মেধাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণসহ সার্বিক সহযোগিতা চলমান থাকবে বলে জানান প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের নেতারা।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার্দী সিকদার বলেন, ‘এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির উৎসাহের কারণেই এই স্কুল

দুটি নতুন ভবন পেয়েছে। তিনি নিজে প্রাক্তন ছাত্রদের কাছ থেকে দুটি ভবনের আশ্বাস নেন এবং তাঁদের কাছ থেকে অর্থ তুলে দেন।’

সরোয়ার্দী বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পরিশ্রমী। অভিভাবকদের সহযোগিতা ও ম্যানেজিং কমিটির নিবিড় তত্ত্বাবধানে স্কুলটি এখন উপজেলায় শিক্ষাক্ষেত্রে শীর্ষে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এই শীর্ষস্থান ধরে রেখে আমরা একটি সেরা বিদ্যালয় করার স্বপ্ন দেখছি। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় আমাদের একমাত্র লক্ষ।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক কুমার মুত্সুদ্দী বলেন, ‘এসএসসিতে সেরা হওয়ার যে কৃতিত্ব অর্জন করেছি, এটি ধরে রেখে বিদ্যালয়কে আরো অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে শিক্ষকদের। এ জন্য অভিভাবক ও সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করছি।’



মন্তব্য