kalerkantho


ছাগলনাইয়ায় কুয়েতপল্লীর ঘরগুলো নড়বড়ে

বাসিন্দাদের রাত কাটে আতঙ্কে

আসাদুজ্জামান দারা, কুয়েতপল্লী ছাগলনাইয়া (ফেনী) থেকে ফিরে   

৩০ মে, ২০১৮ ০০:০০



বাসিন্দাদের রাত কাটে আতঙ্কে

ছাগলনাইয়ার কুয়েতপল্লীর ঘরগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ৪০ ঘরের সবকটিরই একই হাল। দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব ঘর। কখন মাথার ওপর এগুলো ভেঙে

পড়ে-এ আতঙ্কে রাত কাটে এখানকার বাসিন্দাদের। ১৯৯১ সালে তৎকালীন সরকার কুয়েত সরকারের অনুদানে এই পল্লী গড়ে তোলে।

ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছাগলনাইয়া-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে কুয়েতপল্লীর অবস্থান। দুপাশে ৪০ ঘরে বসবাস করছে ৮০টি পরিবার। এঁরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে এসে বসতি গড়ে। বেশির ভাগই দিনমজুর। কেউ কেউ রিকশা বা ভ্যান চালান। কেউ বা মাছ কিনে এনে বিক্রি করেন। নারীদের মধ্যে অনেকে বাঁশ-বেতের নানা সামগ্রী তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন।

সম্প্রতি পল্লী ঘুরে দেখা যায়, ঘরগুলোর বেশিরভাগই স্থানে স্থানে ভেঙে ভেঙে পড়ছে। এগুলো বসবাসের প্রায় অনুপোযুক্ত হয়ে পড়েছে।

পল্লীর বাসিন্দা ওহিদের রহমান (৮০)। তিনি তিন মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে এখানে বাস করছেন বহুদিন ধরে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঘরগুলো মেরামত না হওয়ায় এ হাল হয়েছে। রাতে ভয়ে ঘুম আসে না। কখন এগুলো মাথার ওপর ভেঙে পড়ে সেই চিন্তায় সবাই অস্থির।’

পল্লীর বাসিন্দা মৃত নুরের আলমের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫০) বাস করেন ২৭ নম্বর ঘরে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ঘরের ভেতরে-বাইরে পলেস্তারা খসে খসে পড়ে গেছে। টিনের চালে বহু ফুটো। আসছে বর্ষায় ভোগান্তির শেষ থাকবে না। এ সময় ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়।’

ঘরগুলো ঘুরে দেখা যায়, এগুলোর আকার প্রস্থে ১০ ফুটের মতো আর দৈর্ঘ্যে ১৫ ফুটের মতো। পাকা দালানের উপর টিন দেওয়া। বেশির ভাগ ঘরেই ফাটল ধরেছে। টিনগুলো একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে গলগল করে পানি প্রবেশ করে। তখন বাসিন্দারের ভোগান্তির শেষ থাকে না। কেউ কেউ নিজেদের অর্থে মাঝে মাঝে এগুলোর মেরামত করলেও, বেশির ভাগ পল্লীবাসীর পক্ষেই আর্থিক অনটনের জন্য তা সম্ভব হয় না।  পল্লীতে উপরে ছাদ দেওয়া একটি মসজিদও রয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কালাম বলেন, ‘১৯৯৪ সালে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয়। আশপাশের বেশ কয়েকজন ধনাঢ্য ব্যক্তি এটি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এর সংস্থার না হাওয়ায় ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। মুসল্লিদের নামাজ পড়ার ব্যাঘাত ঘটে। মসজিদের তেমন কোনো আয়ও নেই। এলাকার বাসিন্দারা কষ্ট করে ইমাম সাহেবকে খাবার দেন নিয়মিত। ইমাম সাহেব কোনোমতে এর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।’

পল্লীবাসীদের মতে, এখানে ৪ শতাধিক বাসিন্দা নানা সমস্যা-সংকটের মধ্যে রয়েছেন। তবে তাদের এ মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সমস্যা-আবাসন সংকট। তাঁরা ঘরগুলো দ্রুত মেরামতের দাবি করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সেলিম এ বিষয়ে বলেন, ‘পল্লীর বাসিন্দারা এ ব্যাপারে একাধিকবার আমাকে অবহিত করেছেন। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো তেমন কিছু করা সম্ভব হয়নি।’

বিষয়টি অবগত হয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, ‘কুয়েতপল্লীর ঘরগুলো সংস্কারের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 



মন্তব্য