kalerkantho


দালালমুক্ত বাঁশখালী থানা!

উজ্জ্বল বিশ্বাস বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)   

৩০ মে, ২০১৮ ০০:০০



দালালমুক্ত বাঁশখালী থানা!

বাঁশখালী থানায় ভুক্তভোগীদের একটা মামলা করতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগত। এটা ছিল অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ বিষয়। থানার চিহ্নিত দালাল ও তদবিরকারীদের হাতে দিতে হত এসব টাকা। গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে বদলি হয়ে বাঁশখালীতে যোগদান করলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন।

এর পর থেকে বদলে যেতে থাকে ওই চিত্র।

ওসির দাবি, তিনি যোগদান করার পর থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয় দালালচক্র। মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র উদ্ধার, ইভটিজিং রোধ, বাল্যবিয়ে বন্ধ, চুরি-ডাকাতি বন্ধ, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, চিহ্নিত দালাল ও তদবিরকারী নিয়ন্ত্রণ, টাকা ছাড়া মামলা গ্রহণ, চোরাই গাড়ি উদ্ধারসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে কাজ করে চলছেন তিনি।

মাত্র চার মাসে তাঁর এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জনবান্ধব ওসি’ হিসেবে ২৩ মে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস এম মনিরুজ্জামান ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন ওসি সালাহউদ্দিনের হাতে। এছাড়া ২২ মে বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংস্কৃতিক সোসাইটির পক্ষ থেকেও ‘জ্ঞানতাপস ড.

মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্বর্ণপদক’ দেওয়া হয় তাঁকে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস এম মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাঁশখালী থানার ওসি মো. সালাহউদ্দিনকে মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদান রাখায় পুরস্কৃত করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে পারলে আরো পুরস্কৃত করা হবে। জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।’

বাঁশখালীর কাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘ওসি মো. সালাহউদ্দিনের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এলাকাবাসীর কাছে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অপরাধীরা এখন তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকে।’

স্থানীয় সাংবাদিক শাহ মুহাম্মদ শফি উল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছি। তাঁর মতো এরকম জনবান্ধব ওসি দেখিনি। অর্থের চেয়ে মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়ে চিন্তা করার মতো ওসি আমার কর্মজীবনে এই প্রথম দেখলাম।’

বাঁশখালী আদালতের আইনজীবী দিলীপ সুশীল বলেন, ‘ব্যক্তিত্ব ও মহৎ কর্মকাণ্ড কেউ ঢেকে রাখতে পারে না।

সূর্যের আলোর মতো ছড়িয়ে পড়বেই। বর্তমান ওসির ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডগুলো তেমনই এক প্রতিফলন।’

থানা সূত্র জানায়, ওসি হিসেবে সালাহউদ্দিনের যোগদানের পর থেকে চার মাসে বাঁশখালীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯টি তাজা গুলি, ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ ইয়াবা, ১৬৬৫ লিটার চোলাই মদ, ১২৫০ গ্রাম গাঁজা, দুটি চোরাই মোটরসাইকেল, একটি চোরাই সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দুটি চোরাই গরু ও দুটি চোরাই ছাগল উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া দুজন যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের ১৩জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেন তিনি। মাদক মামলা হয়েছে ৩০টি। এসব মাদক মামলায় ৩৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের স্কুল-কলেজ-মাদরাসা এবং হাট-বাজারে প্রতিনিয়ত ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী নিয়মিত বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলছেন।

ওসি মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘উপ-পরিদর্শক থাকা অবস্থায় ডিএমপি, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও র‌্যাবে চাকরি করেছি। ২০১২ সালে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আইজিপি এক্সামপ্লেয়ি গুড সার্ভিস ব্যাচ পুরস্কার পেয়েছি। ২০১৪ সালে পুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পাই। পেশাগত দক্ষতার কারণে কর্তৃপক্ষ অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) থেকে সরাসরি অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদোন্নতি দেয়। আমিই বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ ওসি। অল্প বয়সে ওসির দায়িত্ব পেয়েছি। ২০১৭ সালে জাতিসংঘ সনদপ্রাপ্ত হই। এসব কৃতিত্বের কারণে কর্তৃপক্ষ গত ২৩ জানুয়ারি আমাকে ঢাকা থেকে সরাসরি বাঁশখালীতে নিয়োগ দেয়।’

বাঁশখালীবাসীর উদ্দেশে ওসি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশন ও ভিশন বাস্তবায়ন করতে পুলিশ মাদকবিরোধী ও জনবান্ধব কাজ করে যাচ্ছে। থানায় দালাল ও তদবিরকারী থাকতে পারবে না। ভুক্তভোগী জনসাধারণ নিজেদের

দুঃখ-দুর্দশা পুলিশকে সরাসরি জানিয়ে ঘুষবিহীন সার্বিক সহযোগিতা পেতে পারবেন। পুলিশ মানুষের বন্ধু, শত্রু নয়।’

 

 



মন্তব্য