kalerkantho


দারিদ্র্যজয়ের গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩০ মে, ২০১৮ ০০:০০



দারিদ্র্যজয়ের গল্প

‘শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প দূরদর্শী চিন্তা-চেতনার সঠিক বাস্তবায়ন’

 

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শার মৃত আমিনুল হকের ছেলে মো. আবুল মনচুর শুক্কুর। তিন ভাই, দুই বোন, মা, স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানের পরিবার তাঁর। সংসারের খরচ চালাতে কয়েক মাস আগেও ভাড়ায় অটোরিকশা চালিয়ে সংসার খরচ নিয়ে ছিলেন খুব বেকায়দায়। ধার-দেনা বাড়তে থাকে।

সবসময় মনে অশান্তি লেগেই থাকত। এ অবস্থায় শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প তহবিলের মাধ্যমে সহায়তা পেলেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

জানতে চাইলে আবুল মনচুর শুক্কুর বলেন, ‘আগে পরিশ্রম বেশি হতো, আয় কম ছিল। এখন অটোরিকশার মালিকানা থাকাতে আয় বেশি, শ্রম কম। সন্তানের লেখাপড়া, বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের দেখ-ভাল করার জন্য আমাকে আর পিছনে তাকাতে হচ্ছে না।’

বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডীর মোহাম্মদ শওকত। তিনি বলেন, ‘পরিবারে বাবা নেই। দুই ভাই ও তিন বোনের সংসার। বড় ভাই দুরারোগ্য ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। সেই কারণে দুই পরিবারকে দেখতে হয়। এতে বোঝা যায় বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার কি অবস্থা হতে পারে! স্থানীয় গাউসিয়া হকভাণ্ডারী ইসলামিক ইনস্টিটিউটে (দাখিল মাদরাসা) সহকারী শিক্ষক হিসেবে মাসের শেষে যা আয় তা দিয়ে কিছুই হয় না।

শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দিয়ে একটি পোল্ট্রি ফার্মে অংশীদার হই। এতে মাসিক বাড়তি কিছু টাকা আয় হয়। পারিবারিক অনেক চাহিদা মেটে। ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে পারি।’

শুক্কুর ও শওকতের মতো দারিদ্র্যতার সঙ্গে যাঁদের বসবাস, অভিভাবকহীন হয়ে জীবনমান গঠনে যাঁরা অসহায়, অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এসে যাঁদের ব্যবসা বাণিজ্যে নামায় ধস, প্রতিবন্ধী হয়ে সমাজের অভিশাপ শব্দটি যাঁরা লালন করছেন, মেধা থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, কিশোর থেকে বয়স বাড়ছে অথচ কোনো কর্মই তাঁদের জীবন গঠনে সহযোগিতা করছে না, কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের বিষাদময় দুর্বিষহ যাঁদের জীবন, চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে হিমশিম যাঁদের অবস্থা, তেমনি অসহায় জন-সমাজের মানবিক দায়িত্ব নিয়ে ২০০৩ থেকে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক

মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প তহবিলের মাধ্যমে তাঁদের সহায়তা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের জাকাত তহবিল পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম আল মাসুদ জানান, তহবিল থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে ২০৯ জনকে ব্যবসায় পুঁজি, ১৭৭ জনকে আর্থিক সহায়তা, ২৯ জনকে ঋণ পরিশোধে সহায়তা, ৩২ জনকে অটোরিকশা, ২৫ জনকে বিদেশ গমনে সহায়তা, ১৩ জনকে মৎস্য খামার, ১৩ জনকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা কেনায় সহায়তা, ৩ জনকে কম্পিউটার প্রদান, ৩ জনকে ইটভাঙার মেশিন, ৫৩ জনকে গবাদি পশুর খামার, ৩৯ জনকে কলের লাঙল, ১০ জনকে হাঁস মুরগির খামার, ৪ জনকে সেচ পাম্প, ১ জনকে মাছ ধরার জাল-নৌকা ক্রয়ে সহায়তা, ৯৫ জনকে শিক্ষায়, ৩৭৪ জনকে বিবাহ সহায়তা, ৩০৫ জনকে গৃহনির্মাণে, ১৭৩ জনকে চিকিৎসা সহায়তা এবং ১৩টি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনসহ মোট ১৫৭১ জনকে ৩,৯৭,৪৪,৯৩০ টাকা সহায়তা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে মানবতার কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের কার্যক্রম গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারী ও যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে স্বনির্ভরতার পথ দেখাচ্ছে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু যুক্ত হচ্ছে প্রকল্পে। মানবতার সেবায় আচ্ছাদিত হচ্ছে চারপাশ। যুক্ত হচ্ছে নানামুখি

পরিকল্পনা। ত্যাগ আর স্বপ্নের ভেতর দিয়ে সেই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিচ্ছে একদল স্বপ্নচারী মানুষ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দিনদিন এর পরিসর বেড়েছে অনেকখানি। বাণিজ্যিক কোনো সম্পর্ক নেই। সেবাই ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য। স্বপ্নচারী কর্মীরা কাজ করছেন নিজের মতো করে হৃদয়ের টানে।

এ প্রসঙ্গে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বন্দরটিলা শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইসকান্দর আলম বলেন, ‘শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প দূরদর্শী চিন্তা-চেতনার সঠিক বাস্তবায়ন। মূলত কর্ম পদ্ধতির সামাজিক অসাম্যতা ও দারিদ্র্য বিমোচনে তাঁদের দক্ষ নেতৃত্ব অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। প্রকল্পটি নিঃসন্দেহাতীতভাবে মহৎ কাজ করে যাচ্ছে। এ তহবিলের মাধ্যমে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর আর্থিক সক্ষমতা আনয়নে সুনির্দিষ্ট কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মতো।’

 



মন্তব্য