kalerkantho


‘রত্নগর্ভা মা’ পটিয়ার চেমন আরা বেগম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



‘রত্নগর্ভা মা’ পটিয়ার চেমন আরা বেগম

‘আজাদ প্রোডাক্টস রত্নাগর্ভা মা অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ পেলেন চট্টগ্রামের পটিয়ার চেমন আরা বেগম। তাঁর বাড়ি পটিয়ার নাইখাইন গ্রামে। প্রয়াত সরকারি চাকরিজীবী মুহাম্মদ আবদুল্লাহর স্ত্রী চেমন আরা বেগম। ১১ সন্তানকে গ্রামের একজন সাধারণ নারী হয়েও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

চেমন আরার সন্তানদের সবাই বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি চাকরিজীবী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলী। তাঁর বড় ছেলে মুহাম্মদ শহীদ উদ্দিন বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক। দ্বিতীয় সন্তান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন কক্সবাজারে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তৃতীয় সন্তান মোহাম্মদ শাহীন উদ্দীন বরিশালে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত। চতুর্থ সন্তান নারী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত। পঞ্চম সন্তান মোহাম্মদ আলমগীর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রিন্সিপাল সায়েন্টেফিক অফিসার (পরিবেশ ও বন)। ষষ্ঠ সন্তান সেলিনা আকতার বিএফ শাহীন কলেজের সিনিয়র শিক্ষক। সপ্তম সন্তান ডা. গিয়াস উদ্দীন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শিক্ষা বিভাগ) জুনিয়র কনসালটেন্ট। অষ্টম সন্তান আবুল কালাম আজাদ পটিয়া সরকারি কলেজের প্রভাষক (পদার্থবিদ্যা)। নবম সন্তান আবু সাদাৎ মুহাম্মদ সায়েম চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সহকারী অধ্যাপক। দশম সন্তান রেজিনা আকতার কাপাসগোলা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক। এগারতম সন্তান ডা. মোহাম্মদ ওমর কাইয়ুম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

জানা যায়, চেমন আরা বেগম খুব সাধারণ আড়ম্বরহীন জীবনযাপন করেন। ধর্মভীরু নারী। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ধনাঢ্য পরিবারে তাঁর জন্ম হলেও নাইখাইন গ্রামের একজন শিক্ষানুরাগী সরকারি কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয়। প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা বা কোনো ডিগ্রি নেই তাঁর। বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অপার কৃপায় এতদূর এসেছি।’ তাঁর অদম্য প্রচেষ্টা ও শিক্ষার প্রতি বিশেষ অনুরাগ থাকায় ১১ সন্তানের সবাইকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন তিনি। যা পটিয়ায় বিশেষ দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাঁর প্রতিটি সন্তান স্ব-স্ব পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে পুরো দেশে আলো ছড়াচ্ছেন।

তাঁর বড় সন্তান পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উদ্দীন বলেন, ‘আমার মা একজন মহীয়সী নারী। তিনি আমাদেরকে যেমন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন তেমনি আমাদের এলাকায় প্রতিবেশীদেরকেও শিক্ষিত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি শিক্ষা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। মা মনে করেন শিক্ষাবিহীন মানুষ অন্ধ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই তিনি সবসময় শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই আজ আমরা তাঁর ১১ সন্তানই

স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত।’

আরেক সন্তান শিশু চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মা আমাদেরকে লেখাপড়ার বিষয়ে কখনো কোনো ছাড় দিতেন না। তাঁর সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই আজ আমাদের পরিবার শিক্ষাক্ষেত্রে এলাকায় মডেল।’

পটিয়ার জঙ্গলখাইন ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে এ পরিবারটি একটি মডেল। চেমন আরা বেগম রাজধানী ঢাকা থেকে রত্নাগর্ভা মায়ের যে স্বীকৃতি পেয়েছেন তা সত্যিই গর্বের বিষয়। আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই।’

পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সাফল্য গাথাকে যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান এরই বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি পটিয়ার চেমন আরা বেগম ‘রত্নগর্ভা মা’ হিসেবে সম্মাননা লাভ করায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে সারাদেশের ৫০ মাকে রত্নাগর্ভা মা হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সহধর্মিণী রুবানা হক ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ফারুক। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি খায়রুল মজিদ মামুন। স্বাগত বক্তব্য দেন রত্নগর্ভা মা অ্যাওয়ার্ডের উদ্যোক্তা ও আজাদ প্রোডাক্টসের কর্ণধার জিয়াউর রহমান আজাদ, অনামিকা আজাদ ও বিলকিস জাহান।


মন্তব্য