kalerkantho


ফেনীর মঞ্চনাটকে নতুন মুখ তিন্নী

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



ফেনীর মঞ্চনাটকে নতুন মুখ তিন্নী

... দেবশ্রী দেব তিন্নী পঞ্চবটী সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাটক বিভাগের প্রথম প্রযোজনা ‘ভেলুয়া সুন্দরী’ নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন। ফেনীর গণ্ডি পেরিয়ে নাটকটি মঞ্চায়িত হয় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উদয়পুর ও খোয়াইয়ে। সেখানেও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিন্নী। পূর্ববঙ্গ গীতিকা অবলম্বনে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন মন্দিরা বিশ্বাস ...

 

‘‘সেই ২০০৬ কী ২০০৭ সালের কথা। তখন ফেনী মডেল প্রাইমারিতে পড়তাম। একটা অনুষ্ঠানে ‘রক্তকরবী’ নাটকের অংশবিশেষ মঞ্চায়িত হচ্ছিল। সেই নাটকে খুব ছোট একটি চরিত্রে স্বল্প সময়ের জন্য অভিনয় করি। ওটাই ছিল জীবনের প্রথম মঞ্চে উঠা। কিন্তু ওই দিনটার কথা এখনো মনে আছে। ওটাই ছিল শুরু।’’

কথাগুলো বলছিলেন ফেনীর নাট্যমঞ্চের নতুন মুখ দেবশ্রী দেব তিন্নী। এই তরুণী সম্প্রতি ফেনীর পঞ্চবটী সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাটক বিভাগের প্রথম প্রযোজনা ‘ভেলুয়া সুন্দরী’ নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন। ফেনীর গণ্ডি পেরিয়ে নাটকটি মঞ্চায়িত হয় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উদয়পুর ও খোয়াইয়ে। সেখানেও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিন্নী। পূর্ববঙ্গ গীতিকা অবলম্বনে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন মন্দিরা বিশ্বাস।

পঞ্চবটীর ‘ভেলুয়া সুন্দরী’র সঙ্গে জড়ালেন কীভাবে?-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিন্নী বলেন, ‘‘আমি আসলে পঞ্চবটীতে দোলনদার কাছে গান শিখতাম। ২০১৬ সালের নভেম্বরে পঞ্চবটির নাটক বিভাগের কাজ শুরু হয়। হঠাৎ একদিন নাটক বিভাগের পরিচালক বিধান চন্দ্র শীল আমাকে বলেন, ‘তুই নাটকে আয়, এখানে ভালো করবি।’ আসলে বিধানদার উৎসাহে এ নাটকের সাথে যুক্ত হওয়া। কিন্তু শো হওয়ার পর যেভাবে সকল দর্শক নাটকটির প্রশংসা করেছেন, তাতে মনে হল এর সাথে না জড়ালে মিস করতাম।’’

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের দুর্গাপুরে তিন্নীদের আদি নিবাস হলেও বর্তমানে পারিবারিকভাবে বাড়ি করে ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ায় বসবাস করছেন তাঁরা। তাঁদের পরিবারটি আগাগোড়াই সংস্কৃতিমনষ্ক পরিবার। বাবা বিপুল দেব চট্টগ্রামে কনকর্ড গ্রুপের একজন কর্মকর্তা। মা প্রতিভা দেব একসময় গান করতেন। কিন্তু পরে নানা সাংসারিক ব্যস্ততায় গান গাওয়া আর নিয়মিত করতে পারেননি।

তিন্নীরা দুই বোন এক ভাই। বড় বোন তনুশ্রী দেব তনু গান করেন নিয়মিত। তিনি ঢাকা বেতারের একজন নিয়মিত শিল্পী। ছায়ানটের শেষ বর্ষের ছাত্রী বড় বোন তনু। তাঁরা ঢাকায় থাকেন। ভগ্নিপতি রাজীব মজুমদার রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ছোট ভাই বিকাশ দেব অর্ঘ্য সোডায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। তিন্নী ফেনী সরকারি জিয়া মহিলা কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ফেনীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কমপ্যাক্ট মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটে ল্যাব টেকনোলজি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে।

ভারতের উৎসবে ‘ভেলুয়া সুন্দরী’ নাটকের দুটি শোতে অংশ নেওয়া তিন্নীর জন্য এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। তিন্নী জানান, সেখানে সবাই নাটকটির প্রশংসা করেন। দর্শকদের নানা চমকপ্রদ মন্তব্য শুনে দলের সবাই খুব উৎসাহ পেয়েছেন। তিন্নীর অভিনয়ও সেখানে প্রশংসা পেয়েছে। উদয়পুরের লিটল ড্রামা গ্রুপ ও খোয়াইয়ের উত্তরণ নাট্যাঙ্গন এ দুটি উৎসবের আয়োজন করেছিল।

কালের কণ্ঠকে তিন্নী বলেন, ‘শিশুবেলায় বড় বোনের হাতে গানের হাতেখড়ি হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে তা বেশি দূর এগোয়নি। ফেনীর পঞ্চবটীতে গান শেখার ইচ্ছে থাকলেও সিনিয়র সংগঠকদের আগ্রহে নাটকে চলে আসা।’

এখন মঞ্চ নাটকেই নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছে তিন্নীর। তিনি জানান, সুযোগ পেলে আরো কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে।

তিন্নীর মা প্রতিভা দেব বলেন, ‘মেয়েদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কখনো বাধা দিইনি। যতোটা সম্ভব সহায়তা দিয়েছি, উৎসাহ দিয়েছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ভালো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পরিবারের পক্ষ থেকে সমর্থন থাকবে।’

তিন্নীর বাবা বিপুল দেব বলেন, ‘তিন্নীকে পরিবারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব উৎসাহ আর সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দর্শকদের মুখে মেয়ের প্রশংসা শুনে খুবই আনন্দ পেয়েছিলাম। আশা করি তিন্নী ভবিষ্যতে আরো ভালো করবে।’

পঞ্চবটীর নাটক বিভাগের পরিচালক বিধান চন্দ্র শীল বলেন, ‘ভেলুয়া সুন্দরী’ নাটকের মহড়া থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে তিন্নী আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। নিয়মিত চর্চা চালিয়ে গেলে সে আরো ভালো করবে।’

নাটকটির নির্দেশক মন্দিরা বিশ্বাস বলেন, ‘একজন সহশিল্পী হিসেবেও তিন্নী তার সর্বোচ্চ ভালো কাজটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভারতের উৎসবেও সে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তিন্নী এখন কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে তার আরো ভালো কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’

 



মন্তব্য