kalerkantho


মেয়েদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে ইয়ুথ’স ভয়েস

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



মেয়েদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে ইয়ুথ’স ভয়েস

সমাজ পরিবর্তনের অঙ্গীকারে নারীর মাঝে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে নীল টি-শার্ট গায়ে একঝাঁক তরুণ-তরুণী নিরন্তর ছুটে চলছে দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। কেউ শারীরিক কিংবা মানসিকভাবে, কেউ ব্যস্ত অনলাইন প্রচারে।

যিনি যেভাবেই পারছেন সেভাবেই তুলে ধরছেন তাঁদের উদ্দেশ্য। তাঁদের এখন ব্যস্ততা ২৮ মে ‘ওয়ার্ল্ড মেন্সট্রুয়াল হাইজিন ডে’ নিয়ে প্রচার-প্রচারণা। তাঁরা সবাই চট্টগ্রামের ‘ইয়ুথ’স ভয়েস’ এর কর্মী। নগরের দক্ষিণ খুলশী জাকির হোসেন সড়কে সংগঠনটির কার্যালয়।

নারীদের মাসিক নিয়ে সংকোচ, লজ্জা দূর এবং এসব নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার প্রত্যয়ে ইয়ুথ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত ইয়ুথ’স ভয়েস নামক স্বেচ্ছাসেবী

সংগঠনটি দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কাজ করছে।

সংগঠনের উচ্চপর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবাই প্রাণপণে তাঁদের নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে আগামীতে দেশে নারীর শারীরিক স্বভাবজাত এই প্রক্রিয়াকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে নেয়।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশনসিস্টেম (আইজিএমআইএস), ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি

ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিলভার

বেলস গার্লস হাই স্কুল, সরাইপাড়া সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্ব মাদারবাড়ি সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বান্দরবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিইপিজেডের মাইডাস সেইফটি নামের কারখানায় শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের জন্য পিরিয়ড বিষয়ক সেমিনার ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করে সংগঠনটি। চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন

স্থানে সংগঠনটি এমন সেমিনার ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে নিয়মিত।

সংগঠনটির এমন উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে এসিআই লিমিটেড কম্পানি ও আবুল খায়ের গ্রুপ অব কম্পানিজ। পাশাপাশি সংগঠনটির স্ট্রাটেজিক পার্টনার হিসেবে রয়েছে ইউএসএইড বাংলাদেশ।

নারীদের পিরিয়ড নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে শুরু হওয়া জনসচেতনতা বিষয়ক মাসব্যাপী সেমিনার ও সর্বশেষ ওয়াক ম্যারাথন ও সাইকেল র‌্যালির মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এই ক্যাম্পেইন।

জানা গেছে, ইয়ুথ’স ভয়েসের যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে ‘স্প্রেড এডুকেশন’ প্রজেক্টের মাধ্যমে।

দীর্ঘ ৭ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটি ৩০টির মতো প্রজেক্ট পরিচালনা করেছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ

২০১৫ সালে ‘জয় বাংলা অ্যাওয়ার্ড’ পায় এ সংগঠন।

সংগঠনটি ঈদ এবং শীতকালীন প্রোগ্রাম ছাড়াও বছরজুড়ে ওয়ার্ল্ড মেন্সট্রুয়াল হাইজিন ডে, মে-ডে, ক্যারিয়ার হ্যাক্স নিয়ে নানা আয়োজন করে থাকে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুরে।

ইয়ুথ ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফাউন্ডেশনের অধীন পথশিশুদের জন্য স্কুল পরিচালনা। বর্তমানে ৫০ এর অধিক ছাত্রছাত্রী পড়ছে ওই স্কুলে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে।

তাদের জন্য নিয়মিত শারীরিক সেবা ছাড়াও, পুষ্টিসম্পন্ন খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হয়। স্কুলটির স্বকীয়তা হলো এর পরিচালনার ধরন। স্কুলের চালিকাশক্তি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মায়েরা। ‘মায়া : মায়ের হাতে দেশ’ শিরোনামে প্রজেক্টের মধ্যেমে স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তাহমিদ কামাল বলেন, ‘প্রজেক্ট মায়া আমাদের সংগঠনের প্রান্তিকাল থেকে লালিত স্বপ্ন। আমরা আরো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও ধ্যানে-জ্ঞানে আমরা সবসময় স্কুলটির জন্যই কাজ করছি।

আমাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পরিকল্পনায় দেশের মানুষের জন্য আমরা আরো অনেক কাজ করে যেতে চাই। আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যেমে ধনী-গরিবের সেই দূরত্বটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছি।’

সংগঠনের সহসভাপতি রাকিবুল হাসান বলেন, ‘বিশ্বায়নের এ যুগে পৃথিবীর সঙ্গে তাল মেলাতে দেশের তরুণ সমাজকেই প্রস্তুত করতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

সারা বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে আমাদেরও হতে হবে তাদের সমসাময়িক। এই কারণে আমরা কাজ করছি সর্বস্তরের তরুণদের সঙ্গে। সাথে সাথে আমরা প্রস্তুত করছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও।’

 

 



মন্তব্য