kalerkantho


কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌপথ

চালকের অভাবে কোটি টাকার সি-অ্যাম্বুলেন্স পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



চালকের অভাবে কোটি টাকার সি-অ্যাম্বুলেন্স পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়

সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম সাগরপথে রোগীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ২০০৮ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি

সি-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। যার তৎকালীন মূল্য ছিল ৩৫ লাখ টাকা।

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অধীনে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাসহ

সি-অ্যাম্বুলেন্সটিতে ১১ বছরে একদিনের জন্যও সেবা পাননি সন্দ্বীপের রোগীরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাঁদেরকে শুধু

সি-অ্যাম্বুলেন্সটি বুঝিয়ে দিয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সটির জন্য চালক ও জ্বালানির কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।’

এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার বার চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত পাননি বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল।

এদিকে ২০১৫ সালে সন্দ্বীপের রোগীদের জন্য নিরাপদ সাগর পাড়ি দিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের আরেকটি

সি-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়।

এই সি-অ্যাম্বুলেন্সটি ছিল আরো বিলাসবহুল ও আরো আধুনিক মানসম্মত। এই সি-অ্যাম্বুলেন্সটি ছিল উপজেলা প্রশাসনের অধীনে। একইভাবে গত ৪ বছরে একদিনের জন্যও

সি-অ্যাম্বুলেন্সটিতে সেবা পাননি সন্দ্বীপের কোনো রোগী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হুদাও বললেন একই কথা। জানালেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় তাঁদেরকে শুধু

সি-অ্যাম্বুলেন্সটি বুঝিয়ে দিয়েছিল। এর চালক ও জ্বালানির কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। তিনিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি নিয়ে বার বার চিঠি প্রেরণ করেছেন। কিন্তু কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত পাননি বলে জানান।

সন্দ্বীপের রোগীদের নিরাপদ সাগরপাড়ি দেওয়ার জন্য দুই মন্ত্রণালয় থেকে কোটি টাকা মূল্যের দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিল সরকার। কিন্তু চালক ও জ্বালানির অভাবে দুটি

সি-অ্যাম্বুলেন্সই অযত্বে অবহেলায় সাগর কূলে নষ্ট হতে চলেছে।

বিষয়টি জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রোগীদের পারাপারের জন্য দুই পাশে স্ট্রেচার ও হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে।

আর সি-অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়টি শিগগিরই সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

 



মন্তব্য