kalerkantho


রাউজানের মহামুনি

গ্রামবাসীর চাঁদায় সড়ক-ড্রেন নির্মাণ

জাহেদুল আলম রাউজান (চট্টগ্রাম)   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



গ্রামবাসীর চাঁদায় সড়ক-ড্রেন নির্মাণ

রাউজান উপজেলার সবচেয়ে বড় গ্রাম মহামুনিকে দুভাগ করে রেখছে মহামুনি ছড়া। মহামুনি সাংস্কৃতিক সংঘ সংলগ্ন ছড়াটি শুধু মহামুনি গ্রামকে নয় দক্ষিণে মহামুনি অ্যাংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়, মহামুনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহলপুর, সাবেইকপাড়া, কুলালপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। শুকনো মৌসুমে হেঁটে ছড়া দিয়ে যাতায়াত করা যায়। তবে বর্ষা মৌসুমে কখনও হাঁটুসম কখনও কোমরসম পানিতে কয়েক শ শিক্ষার্থীসহ নারী-শিশুদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই দুর্ভোগ লাঘবে গ্রামবাসী বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও জনপ্রতিনিধির কাছে ধর্না দিয়ে কোনো কার্যকরী ফল পাননি। অবশেষে তাঁরা সামাজিক উদ্যোগে গড়ে তুলছেন সড়ক যোগাযোগ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। কিন্তু আর্থিক সংকটে মাঝপথে থেমে গেছে কাজ। সামনের বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে পাহাড়ি ঢলে ছড়ার দুপাশে ভাঙন, নির্মিত কাজের ক্ষতিসাধনসহ যাতায়াতে সীমাহীন সমস্যা হবে।

সরেজমিন দেখা যায়, পূর্বের পাহাড় থেকে নেমে আসা মহামুনি ছড়া মহামুনি গ্রামকে দ্বিখণ্ডিত করে পশ্চিমে কর্ণফুলীর একটি শাখা খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই ছড়ার উপর মহামুনি সাংস্কৃতিক সংঘ সংলগ্ন স্থান থেকে পশ্চিমে প্রায় ১০০০ ফুট অংশের ৭০০ ফুট পর্যন্ত ৬ ফুট প্রস্থ আরসিসি ঢালাই দিয়ে এর ডান পাশে ৪ ফুট উচ্চতায় প্রায় ১০ ইঞ্চিসম ইটের গাঁথুনি করে ড্রেন করা হয়েছে। ড্রেনের পাশে ১০ ফুট সড়ক রাখা হয়েছে। যা মাটি ভরাট করে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া ড্রেনটির বাম পাশে ১০ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি এখনো দেওয়া যায়নি। পশ্চিম দিয়ে প্রায় ৩০০ ফুট ছড়া মাটি কেটে কাজের উপযোগী করে তোলা হলেও আর্থিক সংকটে এখন কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে।

এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুকনো মৌসুমে এই ছড়া দিয়ে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলসহ কোমর সম পানি থাকার কারণে চলাচল দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এপার হতে ওপারে যেতে হলে পাঁচ ফুটের যাত্রাপথের বিকল্প পথ তিন কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। সড়কটি নির্মাণে গ্রামবাসী বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্না দিয়ে ফলপ্রসূ না হওয়ায় সম্প্রতি সভা করে সামাজিকভাবে চাঁদা তুলে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন বড়ুয়াকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মহামুনি অ্যাংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়া, টুটুল বড়ুয়া, উেভল বড়ুয়া, তিলক বড়ুয়া, সবুজ কান্তি বড়ুয়া, বিপ্লব বড়ুয়া, দীপেন বড়ুয়া প্রমুখ।

কথা হয় উদ্যোক্তা কমিটির আহ্বায়ক লিটন বড়ুয়া ও অঞ্জন বড়ুয়াসহ অন্যন্য সদস্যদের সঙ্গে।

তাঁরা জানান, প্রাথমিকভাবে ৭৭০ ফুট মতো কাজ সম্পন্ন করতে ১৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদা সংগ্রহে নেমে পড়ি। ২ লাখ ২২ হাজার টাকা নগদ সংগ্রহ হলেও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি অবস্থায় রয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়। সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয় হয়। বাকি টাকা দোকানে বকেয়া রয়েছে। এখন আর্থিক সংকটে কাজ বন্ধ রয়েছে। চাঁদা সংগ্রহ হলে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে। বর্ষার আগে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

তাঁরা স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তি ও সরকারি পর্যায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন বলেন, ‘তাঁরা আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। আমি রাস্তাটি দেখেছি। এখন আমাদের হাতে কোনো প্রকল্প নেই। তবে আমি রাস্তাটি আরসিসি ঢালাইয়ের ব্যবস্থা করব।’

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন মহামুনি তরুণ সংঘের সাবেক সভাপতি সমীর বড়ুয়া বলেন, ‘এই ছাড়ার কারণে মহামুনি গ্রামের উত্তরাংশের মানুষ দক্ষিণাংশে ঘর-বাড়ি ও আত্মীয়তা করতে চান না। রাস্তাটি নির্মিত হলে দক্ষিণে কর্ণফুলী পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হবে। শিক্ষা ও কৃষিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।’

 


মন্তব্য