kalerkantho


সীতাকুণ্ডের সবজি রপ্তানিও হয়

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সীতাকুণ্ডের সবজি রপ্তানিও হয়

‘সবজিভাণ্ডার’ সীতাকুণ্ড। কৃষিতে সমৃদ্ধ এ উপজেলার দুর্গম পাহাড় কিংবা লবণাক্ত মাটির সাগর উপকূল যে দিকেই চোখ যাবে চারদিকে শুধু নানারকম সবজিই চোখে পড়ে। কি নেই এখানে? শিম, টমেটো, কপি, শালগম, বরবটি, ঝিঙা, পটল, ভেণ্ডি, লাউ, কুমড়া, কাঁকরোল, করলা, শসা, ফলসহ প্রায় সবই চাষ হচ্ছে। যখন যে সবজির মৌসুম সীতাকুণ্ডের সর্বত্র সেই সবজির যেন ছড়াছড়ি।

সুদীর্ঘ কাল ধরে এখানকার কৃষক কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এভাবে বিপুল পরিমাণ সবজি উৎপাদন করে যাচ্ছেন। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি হচ্ছে সারাদেশে। আর এত বেশি সবজি এখানে উৎপাদন হয় যে এ উপজেলাকে ‘সবজি ভাণ্ডার’ উপাধি দিয়েছেন কৃষিবিদরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামের প্রবেশ মুখে অবস্থিত একটি উপজেলা সীতাকুণ্ড। উপজেলাটির পূর্ব-পশ্চিমের আয়তন খুবই কম। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে তিন-চার কিলোমিটার দূরে পাহাড়। আবার একইভাবে মহাসড়কের তিন-চার কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। কোনো কোনো জায়গায় অবশ্য দূরত্ব আরো কিছুটা কম অথবা বেশি। এ কারণে এখানে জমির পরিমান তুলনামূলক কম। তবু এ এলাকার কৃষকের প্রাণান্ত চেষ্টা কৃষিকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের সহকারী কৃষি ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাস চন্দ্র নাথ বলেন, ‘এ এলাকাকে সবজি ভাণ্ডার আখ্যায়িত করার যথেষ্ট কারণ আছে। এখানে শুধু রবি মৌসুমেই ৩ হাজার একর জমিতে শিম ও সাড়ে ৪ হাজার একর জমিতে অন্যান্য সবজির আবাদ হয়।

এ মৌসুমে প্রায় ১৭ হাজার কৃষক ২২ থেকে ২৫ রকমের সবজির আবাদ করে দেশের বিভিন্ন স্থান এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করেন।’

তিনি জানান, সীতাকুণ্ডের সবজির কথা বললে সবচেয়ে আগে আসে শিম চাষের কথা। এখানে ব্যাপক হারে শিম চাষ হয়ে থাকে। শীত ও বর্ষা দুই মৌসুমেই শিমের আবাদ করেন চাষিরা। কিন্তু শীতের শিমের জন্যই বিখ্যাত এ উপজেলা। এ মৌসুমে পাহাড়ের ঢাল, সমগ্র সমভূমি থেকে শুরু করে সাগর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ পর্যন্ত যত দূর চোখ যাবে ততদূরই শিমের দেখা মেলে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সীতাকুণ্ড উপজেলায় বেশ কয়েক প্রজাতির শিমের আবাদ হয়। এর মধ্যে অন্যতম হল ছুরি, বাটা, লইট্টা, কার্ত্তিকোটা প্রভৃতি। এদিকে এখানে কৃষির এত সমৃদ্ধির পরও আক্ষেপ আছে কৃষকদের। এখানে একটিও হিমাগার নেই। যা অতীব জরুরি।

বারৈয়াঢালার কৃষক মো. রহমত আলী, বাড়বকুণ্ডের মো. নুর উদ্দিন, মুরাদপুরের মোহাম্মদ আলীর মতো কৃষকরা বলেন, এখানে টমেটো, শিমসহ ২২-২৫ রকমের সবজি সংরক্ষণের কোনো উপায় নেই। ফলে অতিরিক্ত ফসল মাঝে মধ্যে পানির দরেও বেচে ফেলতে হয়। নইলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থেকে যায়। যদি একটি হিমাগার স্থাপন করা হতো তাহলে এসব সবজি সংরক্ষণ করে রেখে চাহিদার সময় সরবরাহ করে আরো বড় অংকের লাভের মুখ দেখত কৃষক।

তাই এ অঞ্চলের কৃষিকে আরো সমৃদ্ধ করতে একটি বিশালাকার হিমাগার স্থাপনের দাবি জানান তাঁরা।

সীতাকুণ্ড উপজেলার সদ্য বিদায়ী কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত সাহা বলেন, ‘কৃষিতে সীতাকুণ্ডের উচ্চতা অন্যরকম। এখানে প্রায় সবরকমের ধান ও সবজির ব্যাপক আবাদ হয়ে থাকে।

সবজি এত বেশি হয় যে কৃষকরা চাষাবাদ করে নিজের ভাগ্য নিজেই গড়তে পারেন। তারা মৌসুম ভেদে নানারকম ধান ও সবজিচাষ করে লাখ লাখ

টাকা আয় করেন। এখানে এমন কৃষকও আছেন যিনি শুধু চাষাবাদ করেই কোটিপতি হয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সব উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের সেবায় সবসময় কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো ফসলে রোগবালাই হলে সাথে সাথে তারা পরামর্শ দিয়ে সমস্যা সমাধান করেন।

সর্বক্ষণ মাঠে থেকে তাঁরা কৃষকদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। এভাবে কৃষক ও কৃষিবিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই সীতাকুণ্ড এখন সবজি ভাণ্ডার খ্যাতি অর্জন করেছে।’



মন্তব্য