kalerkantho


মাইনী নদী

একটি সেতু পাল্টে দেবে দীঘিনালার ১১ গ্রাম

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



একটি সেতু পাল্টে দেবে দীঘিনালার ১১ গ্রাম

একটি সেতুর অভাবে যুগের পর যুগ ধরে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি-দুই পাহাড়ি জেলার দুই উপজেলার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

অথচ দীঘিনালা উপজেলার মেরুং বাজারের পাশে মাইনী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, খরস্রোতা মাইনী নদীর পূর্বপাড়ে অবস্থিত জেলার দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের হাজাছড়াসহ দুর্গম ১১ গ্রাম। প্রত্যন্ত পাড়াগুলো হল-হাজাছড়া, ছোট হাজাছড়া, চার কিলোমিটার, সুরেশ কার্বারিপাড়া,

বীরবাহু হেডম্যানপাড়া, অঙ্গদা মাস্টারপাড়া, বাবুন্যা কার্বারিপাড়া, অনিন্দ কার্বারিপাড়া, নেত্রজয় কার্বারিপাড়া, ছকাবা ছড়া, ধন্যামাছড়া জয়ন্ত কার্বারিপাড়া।

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার কাছাকাছি হলেও ওই এলাকার মানুষজনকে নানা প্রয়োজনে দীঘিনালা সদর ও মেরুং বাজারে আসতে হয়।

স্কুল-হাটবাজার-হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা মেরুং এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগ গ্রামগুলোর হাজারো নাগরিকের।

সারাবছর ধরেই অনেকটা বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করেন ওসব গ্রামের মানুষ। স্থানীয় ইউপি সদস্য অমিয় চাকমা বলেন, ‘১১টি গ্রামে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস। এখানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে পাঁচটি। ২০০ হেক্টরের মতো চাষাবাদের জমি রয়েছে।’

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রহমান কবির রতন বলেন, ‘সেতু না থাকায় গ্রামগুলো এখন বিচ্ছিন্ন জনপদ। কোনো উন্নয়নই হচ্ছে না।

চেয়ারম্যান রতন অভিযোগ করেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় বিদ্যালয়ে যায় শিশু ও শিক্ষার্থীরা। বর্ষা মৌসুমে বাড়ে সংকট। নির্বাচন এলে সংসদ সদস্য প্রার্থীরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখেন না। সেতুর অভাবে এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্যেরও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা।’

স্থানীয় সংবাদকর্মী পলাশ বড়ুয়া জানান, সেতু নির্মাণ করা হলে শুধু দীঘিনালা উপজেলার ১১ গ্রামই নয়; রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে দীঘিনালার যোগাযোগ সহজ হবে। দূরত্ব কমবে ২০ কিলোমিটার। বাঘাইছড়ির রূপকারি ইউনিয়নের সাথেও যোগাযোগের নতুন মাত্রা সূচিত হবে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আশুতোষ চাকমা বলেন, ‘একটি সেতু নির্মাণের জন্য পার্বত্য জেলা পরিষদ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেজন্য জেলা পরিষদের প্রকৌশল বিভাগ সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’



মন্তব্য