kalerkantho

বাঁচতে চান পপি

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাঁচতে চান পপি

... মুনমুন আক্তার পপি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েটির অন্য দশ মেয়ের মতো ছিল সুখের সংসার। চাকরিও করেছেন কয়েকটি কম্পানিতে। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের মতো তাঁর সংসার ভেঙে যায়। এর কিছুদিন পর শরীরে বাসা বাঁধে দুরারোগ্য ব্যাধি। বর্তমানে আর্থিক সংকটে চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। চিকিৎসা করাতে তিনি সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য চেয়েছেন ...

 

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার হাদিফকিরহাট গাছবাড়িয়ার মরহুম এনামুল হকের কন্যা মুনমুন আক্তার পপি। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যািলয়ের রাজনীতিবিজ্ঞানের (অনার্স-মাস্টার্স) ২৮তম ব্যাচ ও ১৯৯২-৯৩ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। চট্টগ্রাম নগরের অপর্ণাচরণ স্কুল থেকে এসএসসি ও চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন এ মেধাবী ছাত্রী। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর বাবার ঘরে সুখেই কাটছিল তাঁর দিন। মধ্যবিত্ত এ পরিবারে অভাব থাকলেও সুখের কমতি ছিল না। হঠাৎ সুখের সংসারে নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। 

প্রায় দেড় বছর আগে দুরারোগ্য ব্যাধি পপির শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে। এরই মধ্যে বাবাকে হারান তিনি। তিন বোন আর দুই ভাইয়ের মধ্যে পপি চতুর্থ। সবার বড় ভাই ব্যবসা করতেন কিন্তু বর্তমানে বেকার। ছোট ভাই ফার্মেসি থেকে অনার্স করে অসুস্থতার কারণে চাকরি করতে পারছেন না। তাঁর স্পাইনাল কর্ড মেরুদণ্ডের হাড়ের নিচে ছাপা পড়েছে। সাত-আট বছর আগে তিনি বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার ছিলেন। অসুস্থতার কারণে চাকরি চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে এক বোনের স্বামী কিছুদিন আগে মারা গেছেন। বর্তমানে পপিকে দেখা বা চিকিৎসা করানোর মতো পরিবারের কারো সামর্থ্য নেই।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও অপর্ণাচরণ মহিলা কলেজের সাবেক এই মেধাবী শিক্ষার্থী চাকরি করেছেন কম্পিউটার সফটওয়্যার কম্পানি, এমআইএসসি শিপিং লাইনসহ কয়েকটি কম্পানিতে। চাকরি করার সময় এক সহকর্মীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে ২০০৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৩ সালে তাঁর ডিভোর্স হয়ে যায়। কোনো সন্তান নেই। চাকরি করে স্বামীর সংসারে হাল ধরেছেন। ছিল না নিজের জন্য কোনো সঞ্চয়। স্বামীর ঘর থেকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয় বাবার বাড়ির চিরচেনা পুরনো ঠিকানায়।

চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালের ডা. মাজেদ ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে কিছুদিন চিকিৎসায় ছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে এখন চিকিৎসা চালিয়ে নিতে পারছেন না। ডায়াবেটিস, জরায়ুতে সমস্যা ও ব্রেন টিউমারসহ নানা শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত পপি। এর ফলে তাঁর হাত-পা ক্রমান্বয়ে অচল হয়ে আসছে। টাকা-পয়সার অভাবে নিজ কুটিরে যন্ত্রণায় দিন কাটছে বৃদ্ধা মাসহ এই শিক্ষার্থীর। অনেকটা বাধ্য হয়ে পপি সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।

জানতে চাইলে মুনমুন আক্তার পপি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের মানুষ যদি একটি করে টাকা সাহায্য করেন তাহলে এই দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা করে আমি পৃথিবীর আলো বাতাস নতুন করে দেখতে পাব। আমি সকলের কাছে সাহায্য চাই। এই দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই।’

‘দীর্ঘদিন ধরে আমার মাও অসুস্থ। মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে আমার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। আমার ভাইদেরও কোনো সামর্থ্য নেই যে, আমার চিকিৎসা করানো বা ভরণপোষণ চালানোর। তাই আমি মানুষের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’-যোগ করেন মুনমুন আক্তার পপি।

তিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সকলের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা : মুনমুন আক্তার, হিসাব নম্বর-১০২.১০১.১৬৬৮৪৭, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, আগ্রাবাদ শাখা, চট্টগ্রাম।


মন্তব্য