kalerkantho


গাড়ি উঠলেই কাঁপতে থাকে ব্রিজ

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গাড়ি উঠলেই কাঁপতে থাকে ব্রিজ

রাউজানের হলদিয়া আমিরহাট খড়স্রোত সর্তাখালের ব্রিজ নড়েবড়ে হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার করছে যানবাহন। ১৯৯৫ সালের ৩০ জুন ব্রিজটি ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে কাজ শেষে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই যাত্রী সাধারণ এবং যানবাহন চলাচল করতে থাকে ব্রিজটি দিয়ে। সে সময়কার রাউজান ও ফটিকছড়ির মানুষের অন্যতম দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও কাজের মান নিয়ে শুরু থেকে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ। ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি ২২ বছরের মাথায় নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠেছে সে সময়কার প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ২৭০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং মাত্র ১০ ফুট প্রস্থের এ ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা খুবই করুণ। নাটবল্টু অনেক খুলে পড়ে গেছে। এমনকি ব্রিজের মূল মধ্যকার পিলারটির নিচের মাটি সরে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে ব্রিজটি। ব্রিজ নির্মাণের সময় প্রশস্ত কম করায় একটি বড় গাড়ি ব্রিজে উঠলে আরেকটি দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেকক্ষণ। ব্রিজ নির্মাণকালীন কয়েকবছর পর হতে যানবাহন চলাচল বেড়ে গেলে ব্রিজটির উপর চাপ পড়তে থাকে। প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন চলাচল করলেও সে অনুপাতে নির্মাণের পর হতে অদ্যাবধি কোনো ধরনের সংস্কার কিংবা মেরামত হয়নি। ভারী গাড়ি উঠার সঙ্গে সঙ্গে কাঁপতে থাকে ব্রিজটি। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দিয়ে গাড়ি চলাচলের পাশাপাশি শত শত মানুষ বিশেষ করে স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, মক্তব, কেজি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা পায়ে হেঁটে চলাচল করে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ব্রিজটিতে পায়ে হেঁটে পারাপারের জন্য (অ্যাপ্রোচ) সংযোগ জায়গা রাখা হয়নি। যে কারণে অনেক সময় স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চারা ব্রিজ হতে খালে পড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। দুই দিক থেকে অনেক সময় গাড়ি উঠে পড়লে পায়ে হাঁটা লোকদের ভয়ে বুক কাঁপতে থাকে। এমনকি দীর্ঘ যানজটও হয়ে যায় ব্রিজ এলাকায়। মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে যাতায়াতের জন্য শত শত ভক্ত অনুরক্তরা এ ব্রিজ পার হয়ে রাউজান থেকে  দরবারে জিয়ারতে যান।

দক্ষিণ ফটিকছড়ি ও উত্তর রাউজানের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সর্তা ব্রিজটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রিজ এলাকার পাশের বাড়ির বাসিন্দা এস এম বাবর জানান, ‘রাউজানের এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে নিয়ে এসে আমরা তাঁকে ব্রিজটির ব্যাপারে অবহিত করেছিলাম। তিনি কর্তৃপক্ষকে ব্রিজটির জন্য যা-যা করার দরকার তা লিখে ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে বাঁধন আমিরহাট হযরত এয়াছিন শাহ্ ইনস্টিটিউটে পড়াকালীন সময়ে ২০০৪ সালে ব্রিজ থেকে খালে পড়ে গিয়েছিল। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে আমার মেয়েকে বাঁচিয়েছে। এ ধরনের আরো যে কত ঘটনা ঘটেছে তা বড় একটি তালিকা হবে। ব্রিজটি খুবই নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। নিচের মাটি সরে যাওয়া মানে মূল জায়গাতে ফাটল ধরেছে। ব্রিজটি মাত্র ১০ ফুট প্রস্থের, এটির পরিধি ডাবল করে সংস্কার করাই এলাকার মানুষের গণদাবি।’

জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি সকাল দশটা নাগাদ ব্রিজের উপরে একটি ভারী ট্রাক সামনের এক ঠেলাগাড়ি চালককে ধাক্কা দিলে ঠেলাগাড়িটি পাশের রেলিংয়ের সঙ্গে লেগে গেলেও ঠেলাচালক খালে পড়ে যান। সে সময় দুদিকে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়।

এ প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা ১২টি বড় ব্রিজের প্রস্তাব এবং ছোট বড় ৪৭টি পুল কালভার্ট, যেগুলো ২০১৭ সালের জুন-জুলাই মাসের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলোর প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’

তিনি জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তাবে আমিরহাট সর্তা ব্রিজের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে।

সব মিলিয়ে এলাকার মানুষ ও সর্বস্তরের যাত্রী সাধারণের দাবি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম আমিরহাট সর্তা ব্রিজের পাশে বড় আকারের একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।



মন্তব্য