kalerkantho


শীতল পাটির গ্রাম অনন্তপুর

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

২৪ মে, ২০১৭ ০০:০০



শীতল পাটির গ্রাম অনন্তপুর

... ওই গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার পাটি বানায়। বয়স্করা শীতল পাটি বানালেও কম বয়সীরা সাধারণ পাটি তৈরি করে। শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এই পাটিগ্রাম। গ্রামটির প্রায় সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এখানকার কাউকে বিয়ে করতে পাত্রীর প্রধান যোগ্যতা হতে হয় পাটি বানানোর অভিজ্ঞতা। নিজ গ্রামে যোগ্য পাত্রী না পাওয়ায় চট্টগ্রামের মিরসরাই, করেরহাট, ফেনী, সোনাগাজীতে পাটি বানাতে পারেন-এমন পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার ঘটনা অহরহ ...

 

শীতল পাটির ঘুম শরীরকে ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক করে তোলে। শীতলপাটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এখনো গ্রামগঞ্জে শীতল পাটিতে বসিয়ে মিষ্টি খাওয়ানো ছাড়া নববধূকে ঘরে তোলা হয় না। কিন্তু ধীরে ধীরে এই পাটি তৈরির পেশা বিলুপ্তির পথে। তবু নানা সমস্যার মধ্যেও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ফেনীর পরশুরাম পৌর এলাকার অনন্তপুর গ্রামের নারীরা।

ওই গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার পাটি বানানোর পেশায় নিয়োজিত।

এই গ্রাম শীতল পাটির গ্রাম বলে পরিচিত। বয়স্করা শীতল পাটি বানালেও কম বয়সীরা সাধারণ পাটি তৈরি করে। শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এই পাটিগ্রাম। পরশুরামের অনন্তপুর গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে একই দৃশ্য চোখে পড়ে। স্কুলপড়ুয়া কিশোরী থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধা সবাই পাটি বানানোর কাজে ব্যস্ত। তাঁদের সাথে পরিবারের পুরুষ সদস্যরাও সমানতালে পাটি বুনতে পারেন। এটি ওই গ্রামের প্রায় সব কটি পরিবারের প্রধান পেশা। পাটি বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে তাঁদের সংসার ও ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ। এদের পূর্ব পুরুষরাও পাটি বুনত।

অনন্ত গ্রামের প্রায় সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। গ্রামের কেউ বিয়ে করতে গেলে পাত্রীর প্রধান যোগ্যতা হতে হয় পাটি বানানোর অভিজ্ঞতা। নিজ গ্রামে যোগ্য পাত্রী না পাওয়ায় চট্টগ্রামের মিরসরাই, করেরহাট, ফেনী, সোনাগাজীতে পাটি বানাতে পারেন-এমন পাত্রীদের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার ঘটনা অহরহ।

এমন ঘটনা ঘটেছে গ্রামের লালমোহন নাথের ছেলে সুকেন চন্দ্র নাথের (৪৫) ক্ষেত্রে।

তিনি বিয়ে করেন চট্টগ্রামের মিরসরাই

উপজেলার পূর্ব মায়ানি গ্রামের মদন গোপাল নাথের কন্যা বকুল রানী নাথকে। বকুল পাটি বানাতে পারেন।

বিয়ের তিন মাস পর থেকে বকুল রানী নাথ পাটি বানানো শুরু করেন। সেই আয়ে তাঁদের দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চলছে। গত ১৭ বছর ধরে স্বামীর বাড়িতে পাটি তৈরি করে যাচ্ছেন তিনি। গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার পাটি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী কোলাপাড়া গ্রামের একটি অংশের লোকজনও পাটি তৈরিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। অনন্তপুরের পাটি দিয়ে পরশুরাম উপজেলা ও ফেনীর চাহিদা পূরণ হয়। তাছাড়া বাইরের ব্যবসায়ীরাও  কিনে নিয়ে যান। শীতল পাটি ছাড়া সাধারণ পাটিও এখানে তৈরি হয়।



মন্তব্য