kalerkantho


ক্যান্সারাক্রান্ত স্কুলশিক্ষক তাছলিমা বাঁচতে চান

মিরসরাই প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



ক্যান্সারাক্রান্ত স্কুলশিক্ষক তাছলিমা বাঁচতে চান

মা-ছেলে দুজনই কঠিন রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

... তাঁর সন্তান আবু তৈয়বের শরীরেও রয়েছে কিডনি রোগ। গত সাত বছর ধরে প্রতিমাসে তার চিকিৎসায় খরচ হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। গত বছর তাছলিমার শরীরে ধরা পড়ে ক্যান্সার ...

 

প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক তাছলিমা আক্তার বাঁচতে চান। তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। চিকিৎসায় চার লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। রোগ পুরোপুরি সারতে খরচ হবে আরো ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

এদিকে, চার বছর বয়সে তাঁর সন্তান আবু তৈয়বের শরীরে ধরা পড়ে কিডনি রোগ। গত সাত বছর ধরে প্রতিমাসে তার চিকিৎসার জন্য খরচ হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। গত বছর তাছলিমার শরীরে ধরা পড়ে ক্যান্সার। ইতিমধ্যে সহায় সম্বল সব হারিয়ে তাছলিমার নিঃস্ব স্বামী জিয়াউর রহমান প্রায় দিশেহারা। কাকে বাঁচাবেন তিনি প্রিয়তমা স্ত্রী না আদরের সন্তান?

জিয়াউর রহমান একজন পল্লী চিকিৎসক। তাঁর বাড়ি মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের মধ্যম মঘাদিয়া গ্রামে। স্ত্রী তাছলিমা আক্তার স্থানীয় কাজী তালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। পরিবার পরিজন নিয়ে তাঁদের বেশ সুখেই কাটছিল দিন। সন্তান আবু তৈয়বের বয়স যখন চার বছর (বর্তমানে ১১ বছর বয়স) তখন তার শরীরে ধরা পড়ে নেফ্রোটিক সিনড্রম নামের কিডনি রোগ। সেই থেকে প্রতিমাসে তৈয়বের চিকিৎসাব্যয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। তৈয়ব উপজেলার মঘাদিয়া নুরুল আবছার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগান দিতে গত সাত বছরে দারিদ্র্যতা নেমে আসে জিয়াউর-তাসলিমার সংসারে। ২০১৬ সালে তাছলিমার শরীরে ধরা পড়ে দুরারোগ্য ক্যান্সার। ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ায় তাঁর ডান হাতে পচন ধরেছে। জায়গা-জমি সহায় সম্বল বিক্রি করে স্বামী জিয়াউর স্ত্রীর চিকিৎসা শুরু করেন। তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, পরে রাজধানীর গ্রীনলাইফ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ডা. মোশারফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে ছয়টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। যাতে খরচ হয় প্রায় চার লাখ টাকা।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে শিক্ষক তাসলিমা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্যান্সার জীবাণুু পুরোপুরি ধ্বংস হতে হলে শরীরে ১৭টি হার্ট সেপটিল ইনজেকশন পুশ করতে হবে। এগুলো ২১ দিন পরপর এক বছর পর্যন্ত দিতে হবে। যার আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা।’

তাছলিমার বড়ভাই শিক্ষক নজরুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘ঢাকায় যাতায়াত কষ্টসাধ্য হওয়ায় ইনজেকশনগুলো চট্টগ্রাম নগরীর সিআরসিআরের চিকিৎসক সাজ্জাদ মোহাম্মদ ইউসুপের তত্ত্বাবধানে পুশ করার কথা রয়েছে। অর্থ জোগান হলে এগুলো দেওয়া সম্ভব হবে। সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর বরাবরে সাহায্যের একটি আবেদনও করা হয়েছে।’

এদিকে তাছলিমা আক্তারের স্বামী নিজের স্ত্রী সন্তানের অসুস্থতা নিয়ে অনেকটা নিঃস্ব। একদিকে প্রিয়তমা স্ত্রীর ক্যান্সার অন্যদিকে আদরের সন্তানের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যয় জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমার সুখের সংসার তছনছ হয়ে গেল। এখন আমি কাকে বাঁচাবো সন্তান না স্ত্রী? এত টাকা জোগাড় করা আমাদের মতো পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। তবু চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

এদিকে তাছলিমা আক্তারের চিকিৎসা ব্যয় জোগানে সাহায্য চেয়ে কাজ করছে মিরসরাই উপজেলার একটি অনলাইনভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জনতার রক্তের সেবায় আমরা’।

তাঁরা সমাজের বিত্তবানদের কাছে মানবিক সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন। সংগঠনটির উদ্যোক্তা মো. বাহাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি বেসরকারি কম্পানি বরাবরে সাহায্যের আবেদন করেছি। সামান্য অর্থ সংগ্রহ হয়েছে। বাকিগুলোর জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।’ অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে পারেন যে কেউ। বিকাশ নম্বর ০১৮১৭৭০৫৩৭৯ (রোগীর স্বামী), তাছলিমা আক্তার, শিক্ষক হিসাব নং ১৪২০০১১০০৬৭২৮, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, আবুতোরাব বাজার শাখা, মিরসরাই, চট্টগ্রাম।


মন্তব্য