kalerkantho


মাঈনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছেই

জাকির হোসেন, দীঘিনালা   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাঈনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। উপজেলার মাঈনী সেতু এলাকায় একটি বালুমহাল সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হলেও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে নদীর পাঁচ স্থান থেকে। ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হবে না’ মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্টরা মুচলেকা দিলেও বালু উত্তোলন চলছেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইজারা দেওয়া বৈধ বালুমহালেও যন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ দীঘিনালার মাঈনী নদীর কমপক্ষে পাঁচ স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে যন্ত্র দিয়ে। সেগুলো হলো বাবুছড়া বাজার, থানাবাজার, দশবল রাজ বিহারের সামনে, মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন কার্যালয়ের পিছনে এবং ছোটমেরুং খাদ্যগুদাম এলাকা।

সরেজমিনে বাবুছড়া এলাকায় দেখা যায়, বাজার সংলগ্ন মাঈনী নদী থেকে উত্তোলন করা বালু ট্রলিতে বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রকাশ্যে। জানতে চাইলে ট্রলির চালক ও শ্রমিক কেউ কথা বলতে রাজি হননি। অদূরেই নদীতে যন্ত্র বসানো আছে। বালু তোলে সরাসরি পাইপ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পাকা সড়ক সংলগ্ন একটি স্থানে।

বাবুছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় কিছু ছেলে এসব করছে।’ তবে বালুমহালটি তিনি ইজারা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছেন বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সুপার আয়ুষ চাকমা জানান, ইজারার আগে ‘বাবুছড়ায় নদী থেকে বালু উত্তোলন করব না’ মর্মে নভেম্বরে মুচলেকা দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা। এর পর নদীরক্ষা কমিটির সভায় ছোটমেরুং ও বাবুছড়া বালুমহাল দুটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। বিষয়টি জানিয়ে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল ইজারার আবেদন করার জন্য। কিন্তু তাঁরা এখনো আবেদন করেননি।

এ প্রসঙ্গে বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুগতপ্রিয় চাকমা জানান, তিনি এ রকম কোনো চিঠি পাননি। চিঠি পেলে অবশ্যই আবেদন করতেন।

জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মুচলেকা দিয়েছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মাহবুব আলম। বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এখনো বালু তোলা হচ্ছে বলে আমিও জেনেছি।’ তবে কারা ওই কাজ করছে, তা তিনি জানেন না।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ এলিশ শরমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারিভাবে ইজারা দেওয়ার আগে কাউকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। কেউ বালু উত্তোলন করলে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য