kalerkantho


চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় ৮৬১ কেন্দ্র

সাড়ে সাত লাখ শিশু খাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সাড়ে সাত লাখ শিশু খাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

‘ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান, শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ স্লোগানে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চট্টগ্রামে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

আগামী শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে এবার চট্টগ্রাম জেলার ১৪ উপজেলায় ৪ হাজার ৮৬১টি টিকা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭ লাখ ৪২ হাজার ৯৯৭ শিশুকে (৬-৫৯ মাস বয়সী) ভরা পেটে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন এবং ওরিয়েনটেশন সভায় এসব তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. অজয় কুমার দে, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নুরুল হায়দার, জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রমুখ।

চট্টগ্রাম নগরে কতো শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে তা আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী শনিবারের এই ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সের সকল শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আইইউ) খাওয়ানো হবে। একই সাথে শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর বিষয়ে অভিভাবকদের একটি ‘পুষ্টি বার্তা’ প্রচার করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুল অত্যন্ত নিরাপদ এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক পরীক্ষিত। অতীতে বিভিন্ন সময় ভিটামিন এ ক্যাপসুল নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার হয়ে থাকলেও এর কোনো ভিত্তি ছিল না। তবু ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে প্রতিটি হাসপাতালে এ ব্যাপারে মেডিক্যাল দল কর্তব্যরত থাকবে।’

তিনি ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনকে সফল করার জন্য প্রিন্ট, ইলেক্টনিক ও অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।

সিভিল সার্জন জানান, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করার লক্ষ্যে ৩৫ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ১৬৫ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ৬৭৯ জন স্বাস্থ্য সহকারী ও ১৪ হাজার ৫৮৩ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে।

শিশুদের ভরাপেটে টিকাদান কেন্দ্রে আনার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ‘শিশুর শারীরিক ও মস্তিষ্কের বিকাশে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য ভিটামিন এ উপকারী। সবুজ রঙের শাকসবজি, রঙিন সবজি যেমন গাজর, মিষ্টিকুমড়া, শালগম এবং লাল-হলুদ ফলে উদ্ভিজ ভিটামিন এ পাওয়া যায়। এছাড়া সামুদ্রিক মাছে প্রচুর ভিটামিন এ রয়েছে। সরকার ভিটামিন এ যুক্ত ভোজ্যতেল বাজারজাত করা বাধ্যতামূলক করেছে।’

তিনি জানান, কান্নারত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ালে ফুসফুসে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কান্না থামলেই ক্যাপসুল খাওয়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিভাবকদের হাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ এ ক্ষেত্রে ক্যাপসুলটি বাসায় কাটার সময় জীবাণুযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।



মন্তব্য