কর্ণফুলী নদীর নিচে দেশের প্রথম টানেল খননকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণকাজেরও উদ্বোধন করবেন। দুটি প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। আজ রবিবার সকাল ১১টায় তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছবেন। এরপরে প্রকল্প দুটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে দুপুরে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পতেঙ্গায় এক সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন। জানা গেছে, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ নির্মিত হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ থেকে ১৫ মিটার গভীরে চলবে এই খননকাজ। এশিয়ার সবচেয়ে বড় টিবিএম বা খনন মেশিনের পরীক্ষামূলক খনন সম্পন্ন হয়েছে; পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি প্রান্তে খননের জন্য এখন প্রস্তুত হয়ে আছে। কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, খননকাজের জন্য মেশিন পুরোপুরি প্রস্তুত। সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই চার লেনের টানেল খনন করতে সময় লাগবে দুই বছর। এখন যে কাজের গতি, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২২ সালে এই টানেল দিয়ে গাড়ি চলবে। জানা গেছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের জিটুজি মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পে চীনের প্রকৌশলীসহ ৫৫০ জন এবং দেশের এক হাজার ২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করবেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বাংলাদেশে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এরপর অর্থছাড় নিয়ে নানা জটিলতা কাটিয়ে ২০১৮ সালে প্রকল্প নির্মাণে গতি পায়। এদিকে টানেল নির্মাণের ফলে চট্টগ্রাম মূল শহরের সঙ্গে কর্ণফুলীর অপর প্রান্ত আনোয়ারার নিরবচ্ছিন্ন এবং সহজ যোগাযোগ হবে। আর এতে আনোয়ারা-বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকায় শিল্পের প্রসার ঘটবে। টানেলকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে, মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সাগরপার দিয়ে বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণ এবং পরে যা মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা। এর ফলে চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক করিডর। অপরদিকে জানা গেছে, তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর লালখান বাজার থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। মাঝখানে ৯টি পয়েন্টে ওঠানামার সুযোগ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের সয়েল টেস্ট চলছে।