kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পরীক্ষায় জালিয়াতি প্রমাণিত, দুই শিক্ষককে শাস্তির সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০২:০১



পরীক্ষায় জালিয়াতি প্রমাণিত, দুই শিক্ষককে শাস্তির সিদ্ধান্ত

পরীক্ষায় জালিয়াতিতে যুক্ত থাকায় দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রমাণিত হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জালিয়াতিতে যুক্ত শিক্ষকরা হলেন সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. সুপ্তিকণা মজুমদার ও সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেবনাথ। তাঁদের মধ্যে সুপ্তিকণা মজুমদারকে চাকরিচ্যুত ও শিপক কৃষ্ণ দেবনাথকে পদাবনতি করার সিদ্ধান্ত হয়। 

গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ৫২০তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান চবি উপাচার্য।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের এপ্রিলে সংস্কৃত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ৩০৮ নম্বর কোর্সের (প্রাচীন ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি) একটি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং খাতায় পর্যবেক্ষকের স্বাক্ষরবিহীন অতিরিক্ত উত্তরপত্র যুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুই কমিটিতে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এস এম সালামত উল্ল্যা ভূঁইয়া বলেন, ‘সংস্কৃত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের একটি কোর্সের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগেই প্রশ্ন দেওয়া হয়। আর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র বিভাগের শিক্ষক সুপ্তিকণা মজুমদারের বাসা অথবা দপ্তরে লেখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তা কমিটির কাছে স্বীকার করেছে।’ 

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুটি তদন্ত কমিটিতেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত হয় সিন্ডিকেটে। এখন নিয়ম অনুযায়ী দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে হবে। তাঁদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

অন্যদিকে সিন্ডিকেটে শাস্তির বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে জানান সুপ্তিকণা মজুমদার ও শিপক কৃষ্ণ দেবনাথ। আর এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি তাঁরা। 



মন্তব্য