বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নের জঙ্গল বৈলছড়িতে আট বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবৈধভাবে অবাধে চলছে বালি উত্তোলন ও নির্বিচারে পাহাড় কাটা। অভিযোগ রয়েছে, আটজনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসনকে মাসোহারা দিয়ে ১২ স্পটে ২০ কোটি টাকার এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বিনা বাধায়। এসব বন্ধে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় স্কুলে প্রশাসনের উদ্যোগে সচেতনতামুলক বৈঠক করলেও এসব বন্ধ করতে কারো মাথা ব্যাথা নেই। গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের ওই বৈঠক ছিল লোক দেখানো। চাঁদাবাজ ও দুর্বৃত্তরা ঠিকই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন অন্ততঃ ১৫ টি রেজিঃবিহীন ডেম্পার ট্রাক প্রশাসনের চোখের সামনে মাটি সরবরাহ করছে। এসব বালি ও মাটি ব্যবসার কারণে ৫ কিলোমিটার পাহাড়ি সড়ক ভেঙ্গে গেছে। জানা গেছে, পাহাড় কাটা ও বালি উত্তোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বৈলছড়ি নজুমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঁশখালী থানার ওসি কামাল হোসেনসহ অনেকে। সভাপতিত্ব করেন বৈলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন। ওই বৈঠকে সকলে পাহাড় কাটা রোধ ও বালি উত্তোলন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। বৈঠকের ৯ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বৈলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন কালের কণ্ঠের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি বালি উত্তোলন ও পাহাড় কাটা বন্ধে কী নিজের জীবন দিয়ে দেব? উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা সভায় গত দুই বছরে ১৭ বার অভিযোগ করেছি। গত সোমবার প্রশাসনকে নিয়ে ইউনিয়নে সচেতনতামূলক বৈঠক করলাম। বালি খেকো ও মাটি খেকোদের অদৃশ্য শক্তি দমন করা এখন আমার আয়ত্তের বাইরে। এসব অবৈধ ব্যবসায় আমি কিঞ্চিত্ও জড়িত নই। আমি জড়িত থাকার প্রমাণ ফেলে আমার বিরুদ্ধেও লিখুন।’ সরেজমিন জঙ্গল বৈলছড়ি পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বালি খেকো ও মাটি খেকোদের রম রমা ব্যবসা চলছে। অন্ততঃ ১২ স্পটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাল আনলোড করতে সক্ষম এমন ১৫টি ডেম্পার ট্রাক প্রতিদিন বালি ও মাটি নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি ট্রাক বালি বিক্রয় হচ্ছে ১৮০০ (আঠার শত) টাকা, মাটি বিক্রয় হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। গত কয়েকমাসে অন্ততঃ ১৫ হাজার ট্রাক বালি ও মাটি বিক্রয় করেছে। আরও অসংখ্য উত্তোলিত বালি নাদাল্য পাহাড় ও ছুটাইল্যা পাহাড়ে মজুদ রয়েছে। এলাকাবাসী জানান, শামসুল ইসলাম, মো. মনছুর, মোস্তাফিজ, মজিদ, মোক্তারসহ আটজনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বালি ব্যবসায়ী শামশুল ইসলাম বলেন, ‘কে কী করে জানি না। আমরা ৩ জন বালি ব্যবসায়ী প্রতিমাসে থানা পুলিশকে ১২ হাজার টাকা করে ৩৬ হাজার টাকা দিই। বছরে কত টাকা দিতে হয় দেখুন। এতে আমাদের ক্ষতি। সরকারিভাবে ইজারা হলে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা হত। আমরা চাই বালি উত্তোলনে ইজারা দেওয়া হউক। আমরা কোন অবৈধ ব্যবসা করছি না।’ বাঁশখালী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘থানা পুলিশের কেউ অবৈধ ব্যবসার জন্য টাকা নেয় না। অপরাধ ঢাকতে এবং প্রতিবাদি মানুষকে দুর্বল করতে বালি উত্তোলনকারীদের মিথ্যা হুংকার। যেখানে বালি উত্তোলন ও পাহাড় কাটা হচ্ছে পুলিশ দমন করছে প্রতিনিয়ত। বন বিভাগের কারো লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ো হবে। বন সংক্ষণ সম্পূর্ণ বন বিভাগের দায়িত্ব।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে বালি উত্তোলন ও পাহাড় কাটা বন্ধ করা হচ্ছে। জনগণকে সাথে নিয়ে বনের পরিবেশ রক্ষা করা হবে। অবৈধ বালি উত্তোলন ও পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। বৈলছড়িতে শীঘ্রই অভিযান করা হবে।’