kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে এমপি মোস্তাফিজুরের ভিডিও ভাইরাল, দলে ক্ষোভ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০২:১১



চট্টগ্রামে এমপি মোস্তাফিজুরের ভিডিও ভাইরাল, দলে ক্ষোভ

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে নেতাকর্মীরা এখন ফুসছে। গত সোমবার রাত থেকে ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, ভিডিওতে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় একাধিক নেতার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অশালীন কথাবার্তা বলেছেন এমপি মোস্তাফিজুর। 

এর প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাঁশখালী-আনোয়ারা সড়কের চৌমুহনী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। নেতৃত্ব দেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি রাসেল। সমাবেশে ওসমান গণি রাসেল বলেন, ‘আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান যে অশালীন মন্তব্য করেছেন তার জন্য তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে এমপির বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণ করব।’ 
সোমবার রাতেও নগরের মোমিন রোড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। এ সময় এমপির কুশপুত্তলিকা দাহ করে ক্ষমতাসীন দল ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা। গতকাল কর্ণফুলী উপজেলাসহ নগর এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল-সমাবেশ হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা বিব্রত। আমাদের জাতীয় নেতাদের নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অশালীন আচরণ তা মেনে নেওয়া যায় না। হাইব্রিড অরাজনৈতিক যাঁরা আছেন তাঁদের থেকে দলকে মুক্ত করতে হবে।’ 

তবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘উনি (এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী) একজন দায়িত্বশীল মানুষ। তিনি এ ধরনের কথাবার্তা বলেছেন কি না আমি জানি না। আমি এখন ঢাকায়। আমাকে বিভিন্ন জন ফোন করে বিষয়টি বলছেন। আমি ভিডিওটি দেখিনি। তিনি এ ধরনের কথাবার্তা বলতে পারেন না। ভিডিওটি সত্য কি না যাচাই-বাছাই করারও দরকার আছে।’  

আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক এম এ মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে তিনি যে অশালীন কথাবার্তা বলেছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দলের সব পদ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে বহিষ্কারের দাবি করছি।’

জানা যায়, ২০১৪ সালে প্রথমবার এমপি হওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবেই আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার  পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাঁশখালী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আওতাধীন সাংগঠনিক উপজেলা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩০ মে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদ হোসেনকে পেটানোর ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত। তিনি চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় দৈনিকের এক সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি দিয়েও আলোচনায় আসেন। পরে এ ব্যাপারে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।



মন্তব্য