kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

দেশের দেড়শতাব্দী প্রাচীন উৎসব

বান্দরবানের ‘রাজপূণ্যাহ’ ৮ মার্চ থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:৩৫



বান্দরবানের ‘রাজপূণ্যাহ’ ৮ মার্চ থেকে

দেশের প্রায় দেড়শত বছরের প্রাচীন লোকজ উৎসব বান্দরবানের বোমাং ‘রাজপূণ্যাহ উৎসব’ আগামী ৮ মার্চ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে।

বোমাং সার্কেল চিফ রাজা উ চ প্রু আজ মঙ্গলবার সকালে বান্দরবান শহরের সার্কেল চিফ অফিসের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজপূণ্যাহ উৎসবের তারিখ ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজা উ চ প্রু জানান, অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি প্রধান অতিথি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

রাজবাড়ি সূত্র জানায়, ৮ মার্চ সকাল ১০টায় সপ্তদশ রাজা উ চ প্রু আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহন করে ‘কর’ গ্রহণ করবেন।

ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ উৎসব উপলক্ষ্যে বান্দরবান শহরের রাজবাড়ি মাঠে ৩ দিনব্যাপী লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

উৎসবে বোমাং সার্কেলভুক্ত বান্দরবান জেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার ১৪টি মৌজার হেডম্যান (মৌজা প্রধান), কার্বারী (পাড়া প্রধান), সাধারন জুমিয়াসহ দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে।

উল্লেখ্য, দেশের অন্য সব এলাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বার্ষিক খাজনা আদায় করে থাকে তহশিল কর্মকর্তাগণ। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় সরকারি ভূমি ও জুম (ফসল) কর আদায় করার দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে সার্কেল চিফ বা রাজাদের উপর। প্রজাদের কাছ থেকে বার্ষিক কর আদায়ের এই অনুষ্ঠানিকতা ‘রাজপূণ্যাহ’ নামে পরিচিত।

রাঙ্গামাটির চাকমা সার্কেল ও খাগড়াছড়ির মং সার্কেলে এই রাজপূণ্যাহ উৎসব তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারলেও ১৯৭৫ সালে নবম রাজা হেরিং ঞো প্রতিষ্ঠিত ‘রাজপূণ্যাহ উৎসব’ বোমাং রাজারা বংশ পরম্পরায় অব্যাহত রেখেছেন।



মন্তব্য