kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এস আলমের নতুন ১০০ বাস

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:৩১



চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এস আলমের নতুন ১০০ বাস

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, কেরানীহাট, লোহাগাড়া ছাড়াও কক্সবাজারের চকরিয়াসহ আশপাশের ৬ উপজেলার মানুষের জন্য সুখবর দিয়েছেন এস আলম পরিবহন কম্পানি। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক রুটে এই কম্পানি যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে অচিরেই নামাচ্ছেন অন্তত শতাধিক যাত্রীবাহী বাস। একেবারে নতুন ডিজাইনে আধুনিক মানের এবং প্রতিটিতে ২৬ টি করে আসন (সিট) থাকবে এই বাসে।

এতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যাত্রী সেবায় বৈষম্য, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, চট্টগ্রাম থেকে আসার সময় পেছনের সিট নিতে বাধ্য করাসহ নানা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন এখানকার যাত্রী-সাধারণ। এস আলম কম্পানির মতো একইভাবে এই মহাসড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যাত্রীবাহী বাস কম্পানিগুলোকেও আলাদা বাস সার্ভিস চালুর দাবি করেছেন এই অঞ্চলের মানুষেরা।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া পর্যন্ত সরাসরি আলাদা সার্ভিসের জন্য অচিরেই ১০০ নতুন বাস নামানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এস আলম পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস শাখার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউনুস।

ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউনুস কালের কণ্ঠকে জানান, আগামী একমাস পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি আলাদা বাস সার্ভিসের মাধ্যমে অনন্য যাত্রীসেবা দেওয়া হবে। এজন্য কম্পানির ডিপোতে নতুন ডিজাইনের এসব বাস পুরোপুরি প্রস্তুত করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আনুষ্ঠানিকভাবে অচিরেই এসব বাস নামবে সড়কে।

একই তথ্য জানিয়ে এস আলম বাসের চকরিয়ার কাউন্টার ব্যাপস্থাপক দিলীপ দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমানেও এস আলম পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে চকরিয়াসহ আশপাশের উপজেলার যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বরাদ্দ রাখেন। কেননা এই অঞ্চলের মানুষের সেবাটা আগে দেওয়ার চেষ্টা করি আমরা। তাই এস আলম বাস সবসময় যাত্রীসেবাকেই প্রাধান্য দেন।

তিনি বলেন, নিরাপদ এবং আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য এস আলম বাসের প্রতি দিন দিন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বিষয়টি ইতোপূর্বে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এস আলম কম্পানির কনফারেন্সে যাত্রী-সাধারণের কথা চিন্তা করে চকরিয়াসহ আশপাশের ৬ উপজেলার মানুষের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর দাবি করেছিলাম। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুধু চকরিয়াসহ ৬ উপজেলার জন্য নয়, চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি পটিয়া, কেরানীহাট, লোহাগাড়ায় এই আলাদা সার্ভিস চালু হওয়া একেবারেই সময়ের ব্যাপার মাত্র।

উল্লেখ্য, ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়াসহ আশপাশের ছয় উপজেলার যাত্রীভোগান্তি দূর করতে এই মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীবাহী বাসগুলোতে এখানকার যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিট বরাদ্দ এবং সরকারিভাবে বিআরটিসি বাস চালুর দাবি উঠেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই দাবিতে শুক্রবার মানববন্ধন কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামে কক্সবাজার জেলার আলোচিত স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন স্বাধীন মঞ্চ। এদিন সকালে চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশ প্রচার হলে প্রথমবারের মতো অনন্য যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ঘোষণা আসে এস আলম পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

জনবান্ধন এই কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামা স্বাধীন মঞ্চ’র স্বপ্নদ্রষ্টা ও কালের কণ্ঠ শুভ সংঘের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তানভীর আহমদ সিদ্দিকী তুহিন বলেন, আমরা অবশ্যই সফল হবো। কারণ আমাদের এই দাবি যৌক্তিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র (টিআইবি) সদস্য জিয়া উদ্দিন জিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এস আলম পরিবহন কর্তৃপক্ষ যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তা বাস্তবায়ন হলে মানুষের মধ্যে প্রোথিত নেতিবাচক ধারণা দূর হবে। একইভাবে এই মহাসড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যাত্রীবাহী বাস কম্পানীগুলোও একই সেবা চালু করতে পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।



মন্তব্য