kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

৪০ বছরে একবারও মাদকের মামলা নেননি অ্যাডভোকেট সিরাজুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:২৯



৪০ বছরে একবারও মাদকের মামলা নেননি অ্যাডভোকেট সিরাজুল

নিয়মিত প্রায় চার দশকের আইন পেশায় থেকেও একজন আইনজীবী ইয়াবা সহ মাদকের কোনো মামলায় লড়েননি। পেশা হিসাবে যে মামলায় সবচেয়ে বেশি টাকা রোজগারের পথ রয়েছে-সেটাকেই তিনি পরিহার করেছেন। তিনি কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। দীর্ঘকালের পেশায় লাখ টাকা ফি’র লোভেও তিনি পা দেননি। এমনসব অপার তিনি বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

একজন প্রভাব-প্রতিপতিশালী আইনজীবী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি হয়ে ইয়াবা-মাদকের এমন রমরমা সময়েও টাকার লোভ সংবরণ করতে পারায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন তাঁকে আজ সন্মাননা জানিয়েছেন। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ‘নিরব ঘাতক’ বলে পরিচিত ইয়াবা সহ মাদকের কারবারিদের পক্ষে কোনদিন আইনী লড়াই না করেই তিনি বরং  মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছেন। বর্তমান সময়ের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে এরকম গুণী ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এগিয়ে এসেছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেছেন, একজন পেশাজীবী হয়েও ইয়াবার রমরমা বাজার কক্সবাজারে ইয়াবার মামলা পরিচালনা না করার কথাটি ছোট মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অনেক বড়। কেননা ইয়াবার বাজার মানেই কাড়ি কাড়ি টাকা।

জেলা প্রশাসক বলেন, অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা একজন পেশাজীবী এবং একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক হয়েও তিনি নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দেননি। এজন্য এরকম একজন ব্যক্তিকে তাঁর গুণের জন্য সন্মাননা জানানো দরকার।

অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দ্দেশে সারা দেশে চলমান ইয়াবা-মাদকের কঠোর অভিযানের এমন সময়টিতে এরকম উদ্যোগ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারি সংস্থার সদস্যদেরকেও উৎসাহিত করবে।

এতে অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীসহ অন্যান্যরা।

সম্মাননার জবাবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, আমি পেশাগত ভাবে টাকার লোভে যেমনি ইয়াবা কারবারিদের পক্ষে আইনগত সহযোগিতা দিইনি তেমনি রাজনৈতিক সুযোগও দিইনি কারবারিদের।

তিনি বলেন, ইয়াবা কারবারিদের টাকার প্রলোভন এবং চোখ রাঙ্গানিও তাকে কোন প্রভাবান্বিত করতে পারেনি। কেবল টাকাই সবকিছু নয়। টাকার বাইরে মনুষ্যত্ব, নির্লোভ, সামাজিকতা দেশপ্রেম এবং ন্যায়নীতিকেই প্রাধান্য দেওয়া দরকার।



মন্তব্য