kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে ইভিএমে আগাম ভোট!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:১৬



চট্টগ্রামে ইভিএমে আগাম ভোট!

ছবি : রবি শংকর

নির্বাচন কমিশন লটারির মাধ্যমে দেশের যে ছয় আসনে ইভিএমে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) অন্যতম। সিটি করপোরেশনের ১৫ থেকে ২৩ এবং ৩১ থেকে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত মোট ১৪ ওয়ার্ডের ভোটাররা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেবেন। তবে জামালখান ওয়ার্ডের ভোটাররা এর আগেই ‘ইভিএমভীতি’ তাড়াতে আরেকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। যাকে নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, ‘মক ভোটিং’। বিস্তারিত জানাচ্ছেন : রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম

২০১০ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের ভোটাররা। ভাগ্যবান এ ওয়ার্ডের ভোটাররা আবারও ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন লটারির মাধ্যমে দেশের যে ৬টি আসনে ইভিএমে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসন অন্যতম। চসিকের ১৫ থেকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৩১ থেকে ৩৫ নম্বর পর্যন্ত মোট ১৪টি ওয়ার্ডের ভোটাররা আগামী ৩০ ডিসেম্বর ইভিএমের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

তবে জামালখান ওয়ার্ডের ভোটাররা এর আগেই আরেকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। যেটাকে নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন ‘মক ভোটিং’। যদিও পর্যায়ক্রমে অন্য ওয়ার্ডের ভোটাররাও এই সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম।

মূলতঃ ইভিএমের ভীতি দূর করতে ভোটারদের আগে থেকে যন্ত্রটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও গত শনিবার থেকে ২২ নম্বর এনায়েতবাজার ওয়ার্ডের ৪টি স্থানে ইভিএম প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে ভোটার ৩ লাখ ৯০ হাজার ৪৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪ হাজার ২০২ ও মহিলা ভোটার এক লাখ ৮৬ হাজার ২২৪ জন। ভোটকেন্দ্র ১৪৪টি, ভোটকক্ষ ৭৪৩টি। শুরুতে এই আসনে ৭২৫টি মেশিন বসিয়ে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সর্বোচ্চ ৪৫০ জন ভোটার রাখার নির্দেশনার পর কোতোয়ালী আসনে ১৯৫টি ইভিএম বাড়ানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে এই আসনের ৯২০টি ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণ করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়।

নতুন ইভিএমগুলো অস্থায়ী ভোটকক্ষে বসানো হবে। ইতোমধ্যে ভোটকক্ষ স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্ষের তালিকা তৈরির কাজও শেষ। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা ইসিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম-৯ আসন ছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩, খুলনা-২, সাতক্ষীরা-২, ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩ আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

মক ভোটিং-এর ব্যাপারে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশন থেকে এখনো চিঠি পাইনি তবে সম্ভবত ১৫ ডিসেম্বর থেকে মক ভোটিং শুরু হবে। জামালখান ওয়ার্ড দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য ওয়ার্ডেও মক ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

কোতোয়ালী আসনটি চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে ধরা হয়। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ আসনের ভোটারদের মাঝেও ইভিএম নিয়ে আগ্রহ আছে। বিশেষ করে তরুণ যাঁরা এবারই প্রথম ভোট দেবেন তাঁদের মধ্যে আগ্রহ বেশি। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র ইমরান আকাশ যেমন বলেন, ‘নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে হয় যে জীবনের প্রথম ভোটটি ইভিএমে দিতে পারব।’

সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে কোতোয়ালী আসন থেকে ৮ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। প্রার্থীরা হলেন : ওয়াহিদ মুরাদ (ইসলামিক ফ্রন্ট), শেখ আমজাদ হোসেন (ইসলামী আন্দোলন), ডা. শাহাদাত হোসেন (বিএনপি), মৃণাল চৌধুরী (কমিউনিস্ট পার্টি), মৌলভী রসিদুল হক বিএসসি (খেলাফত আন্দোলন), আবু আজম (ইসলামী ফ্রন্ট), মো. মোরশেদ সিদ্দিকী (জাতীয় পার্টি-জেপি) ও মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (আওয়ামী লীগ)।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও প্রার্থীদের মধ্যেই আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ইভিএম ভোটকে স্বাগত জানিয়েছেন আগেই। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে মহানগর বিএনপি।

যেভাবে ভোট দেবেন ইভিএমে : ভোটার বুথে যাওয়ার পর পোলিং কর্মকর্তা প্রথমে আঙুলের ছাপ, ভোটার নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা স্মার্ট পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভোটারকে শনাক্ত করবেন। এরপর ডাটাবেজে ভোটার বৈধ হিসেবে শনাক্ত হলেই প্রজেক্টরের ডিসপ্লেতে সেটি দেখা যাবে। পরবর্তীতে একটি টোকেন ভোটারকে দেওয়া হবে। ভোটার টোকেন নিয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে যাবেন। টোকেন দেখে স্ক্যানারের মাধ্যমে শনাক্ত করে ব্যালট ইস্যু করে দেবেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

এর পর ভোটার গোপনকক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীক দেখে বাম দিকে বোতামে চাপ দিয়ে সিলেক্ট করে ব্যালট ইউনিটের সবুজ রঙের কনফার্ম বোতাম চেপে তাঁর ভোট শেষ করবেন। ভুল প্রতীক সিলেক্ট হয়ে গেলে, ব্যালট ইউনিটের লাল রঙের ক্যান্সেল বোতাম চেপে পরবর্তীতে সঠিক প্রতীক সিলেক্ট করতে পারবেন ভোটার। তবে এ সুযোগ দুই বারের বেশি পাওয়া যাবে না।

কোতোয়ালী-বাকলিয়া আসনে ভোটগ্রহণ হবে ৯২০ ইভিএমে

মো. মুনির হোসাইন খান
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম

কালের কণ্ঠ : ইভিএমের প্রস্তুতি কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে?

মুনির হোসাইন : ইভিএম ভোট নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি অনেকটা গুছিয়ে এনেছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে আমরা ইভিএম প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছি। মানুষজনও আগ্রহ নিয়ে দেখতে আসছেন। আমাদের এক্সপার্টরা যতটুকু পারছেন তাঁদের দেখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কালের কণ্ঠ : ‘মক ভোটিং’ এর দিনক্ষণ কি ঠিক করা হয়েছে?

মুনির হোসাইন : আগামী ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কর্মকর্তাদের ইভিএম নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাঁরা পরবর্তীতে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেবেন। আশা করছি ১৫ ডিসেম্বরের পর যেকোনো দিন মক ভোটিংয়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

কালের কণ্ঠ : চট্টগ্রাম-৯ আসনে নতুন করে ১৯৫টি ইভিএম বাড়ানোর কারণ কি?

মুনীর হোসাইন : ইসি থেকে নির্দেশনা আসার পর ১৯৫টি ইভিএম বাড়ানো হচ্ছে। আগে এ আসনে ৭২৫টি ইভিএম বসানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ইভিএমপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৫০ জন ভোটার রাখার নির্দেশনার পর সর্বমোট ৯২০টি ইভিএমে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ভোটগ্রহণ হবে। 



মন্তব্য