kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

কওমিপন্থী আলেম-উলামাদের ৬ দফা দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:৫৩



কওমিপন্থী আলেম-উলামাদের ৬ দফা দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি

গাজীপুরের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের পরিকল্পিত হামলার বিচারসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন কওমিপন্থী আলেম-উলামারা। সাত দিনের মধ্যে এসব দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।  

গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার দারুল হাদিস মিলনায়তনে উলামা-মাশায়েখ প্রতিনিধি সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আল হাইআতুল উলয়ালিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ ও বেফাক চেয়ারম্যান, হেফাজতে ইসলামের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর আহ্বানে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে ‘তাবলিগ জামাতের চলমান সংকট নিরসন ও আলেম-উলামাদের করণীয়’ শীর্ষক উলামা-মাশায়েখ প্রতিনিধি সম্মেলনে ছয় দাবি পেশ করা হয়। বক্তারা বলেন, গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ময়দানে সাদ সাহেব ও ওয়াসিফগংয়ের অনুসারীরা যে অমানবিক ও নৃশংস হামলা করেছে তার নিন্দা করার ভাষা আমাদের নেই। এই হামলায় তাবলিগের সাথি ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক মিলে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো আহত হয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক গুরুতর হামলার শিকার হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে।

বক্তারা আরো বলেন, ‘টঙ্গী ময়দানে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বিজ্ঞমহল এটাকে একটি সুপরিকল্পিত হামলা বলে মনে করছে। সেদিন সাদপন্থীরা যে বর্বরতা ও সহিংসতা দেখিয়েছে তা তাবলিগের ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে লেখা থাকবে। ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার বিভাগীয় তদন্তসাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো হলো—টঙ্গী ময়দানে সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত ওয়াসিফুল ইসলাম, খান শাহাবুদ্দিন নাসিম, মাওলানা মোশাররফ হোসাইন ও ইউনুস সিকদার এবং তাঁদের অনুসারীদের কাকরাইল মসজিদে ঢুকতে না দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; সরকারের সঙ্গে পরামর্শকৃত বিশ্ব ইজতেমার নির্ধারিত তারিখ ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ২০১৯ (প্রথম পর্ব) এবং ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি (দ্বিতীয় পর্ব) এখনই চূড়ান্ত করে ইজতেমার জন্য ময়দান তৈরি করার সুযোগ দিতে হবে; সাদ এবং তাঁর বাংলাদেশি অনুসারী এতাআতী দলের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব উলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ ফাতোয়া তৈরি করে ব্যাপকভাবে প্রচার করা; দাওয়াত ও তাবলিগে সৃষ্ট সংকটের ওজাহাত এবং টঙ্গী ময়দানের ঘটনার বিবরণ ও বাস্তবচিত্র তুলে ধরা অব্যাহত রাখা; প্রত্যেক এলাকায় উলামায়ে কেরাম ও তাবলিগের সাথিরা সমন্বিতভাবে বেশি থেকে বেশি জামাত বের করার ফিকির করা এবং নামাজ ও দোয়ার ইহতেমাম করা; সাদপন্থীরা নিজেদের এতাআতী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে, সুতরাং যার এতাআতে থেকে টঙ্গী ময়দানে বর্বর হামলা চালানো হয়েছে, তা উদ্ঘাটন করে তাকে বিচারের আওতায় আনা।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারের কাছে পেশ করা দাবিগুলো আগামী সাত দিনের মধ্যে পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা মুহাম্মদ যোবাইর, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা শেখ আহমদ, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আবু তাহের নদভী, মাওলানা মাহমুদুল আলম, মাওলানা আব্দুল বাছির, মাওলানা মুবারক উল্লাহ, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা নুরুল হুদা ফয়জী, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ ফরিদী, মাওলানা উমর ফারুক, মুফতি জসিমুদ্দীন প্রমুখ।



মন্তব্য