kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

পটিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ

স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:৩৮



স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের

পটিয়ার গৃহবধূ জুবাইর মোস্তফা চুমকিকে তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছেন—এ অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন চুমকির বাবা গোলাম মোস্তফা। তিনি পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার জন্য পটিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে আসামিরা আত্মগোপন করেছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ১৪ নভেম্ভর চুমকীর লাশ শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পটিয়া থানা পুলিশ। এ সময় স্বামী ও শ্বাশুড়িসহ অন্যান্যরা চুমকি আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে মামলা দায়েরে বাধ সাধেন। গত রবিবার চুমকীর বাবা পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত তা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে এক দিনের মধ্যে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে পটিয়া উপজেলার বিনানিহারা গ্রামের কদল ফকিরের বাড়ির বাসিন্দা সৌদিয়া জাফরের ছেলে মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম জুয়েলের সাথে বোয়ালখালীর ধুরালা গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে চুমকীর বিয়ে হয়। তাদের দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে। 

বিয়ের পর থেকে যৌতুকসহ নানা বিষয়ে চুমকীকে শ্বাশুড়ী ও স্বামী নির্যাতন করতেন বলে চুমকির বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা তাদের কৃতকর্ম ঢাকা দিতে আমার নীরিহ মেয়েকে পিটিয়ে খুন করে আত্মহত্যা করেছে মর্মে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ 

মামলায় চুমকির স্বামী খোরশেদুল আলম জুয়েল (২৫), শ্বাশুড়ি হোসনে আরা বেগম (৪৫), ননদ জেরিন আক্তার (১৮), মোহাম্মদ মুছা (৫০), মোহাম্মদ এয়াকুব (৪০), আবদুল ছমদ (৩৮) ও মনিকা বেগম (৩৫) কে আসামী করা হয়েছে। 
চুমকির বাবা মোস্তফা জানান, তার মেয়ে একটি পরকীয়ার ঘটনা দেখে ফেলায় তা ধামাচাপা দিতে তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে এবং পরে পুলিশে সংবাদ দেয়। কিন্তু মোস্তফাকে বা তার পরিবারকে কোন খবর না দিয়ে গোপনে মেয়ের লাশ ময়না তদন্তের উদ্যোগ নেয়। সন্ধ্যার দিকে এক অপরিচিত ব্যক্তির ফোনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনি। থানা পুলিশকে মামলা হিসেবে রেকর্ডের অনুরোধ জানান। কিন্তু পুলিশ ওই ঘটনায় হত্যা মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

পটিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ মিলেছে। এ কারণে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে রেকর্ড করে লাশের ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়না তদন্তে গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত করা হতো। কিন্তু তা এখনো পাওয়া যায় নি। এদিকে গৃহবধূর পিতা বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত এক দিনের মধ্যে মামলা হিসেবে রেকর্ড করার আদেশ দেয়ায় তা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



মন্তব্য