kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

দীঘিনালায় খালার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে লাশ হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০২:৪৮



দীঘিনালায় খালার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে লাশ হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক

দীঘিনালায় খালার বাড়ি বেড়াতে এসে লাশ হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক। তাঁর নাম আজগর আলী (২২)। আজগর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার মাধবপুর গ্রামের জহুর আলীর ছেলে। গতকাল শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের বাচামেরুং এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, জগরের খালা সেলিনা বেগমের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে রশিদের পরিত্যক্ত একটি মাটির গুদামঘরের পাশে পড়ে ছিল আজগরের লাশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিন-চার দিন আগে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

আজগরের খালুর নাম আশরাফ মিয়া। আজগরের খালার বাড়ির লোকজন জানায়, আজগর রবিবার ওই বাড়িতে বেড়াতে যান। সোমবার সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে আর ফেরেননি তিনি। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজগর প্রায়ই বাচামেরুং এলাকায় খালার বাড়ি বেড়াতে যেতেন। লাশটি প্রথম দেখেন স্থানীয় মাসুমা বেগম (৩৮)। মাসুমা জানান, জরুরি প্রয়োজনে তিনি রশিদের পরিত্যক্ত বাড়ির পাশের সরু সড়কে যাচ্ছিলেন। নির্জন স্থানে লাশ পড়ে থাকতে দেখে তিনি ভয় পেয়ে যান। তাত্ক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

আজগরের খালুর বাড়িতে গিয়ে আশরাফ মিয়া এবং সেলিনা বেগমকে পাওয়া যায়নি। আজগরের খালাতো বোন আকলিমা (২০) জানান, তাঁর বাবা-মা চিকিত্সার জন্য প্রায় চার মাস ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছেন। তবে তাঁর  বাবা সম্প্রতি এসেছিলেন আজগর আসার আগেই। আবার আজগর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে গেছেন। আকলিমার স্বামী  রহমত উল্লাহ (২৪) থাকেন বরিশালে। তিনি বৃহস্পতিবার বাড়ি এসেছেন। রহমত উল্লাহ জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। আজগর আলীর নিখোঁজের বিষয়টি জেনে তাঁরা ভেবেছিলেন আজগর হয়তো কাউকে না বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে গেছেন। এ বিষয়ে পুলিশকে না জানালেও ফেসবুকে জানান দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের মাথার পেছনে এবং মুখের ডানপাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের পকেটে ৫০০ টাকা পাওয়া গেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রওনক আলম জানান, হত্যা করা হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং সন্দেহের সব দিক সামনে রেখেই তদন্ত চলছে। দ্রুত হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে পুলিশ আশাবাদী।



মন্তব্য