kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

প্রত্যাবাসন না করায় রোহিঙ্গা শিবির শান্ত

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০২:৩১



প্রত্যাবাসন না করায় রোহিঙ্গা শিবির শান্ত

গত বৃহস্পতিবারের প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে কোনো রোহিঙ্গার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন না হওয়ায় গতকাল শুক্রবার শিবিরগুলোর পরিস্থিতি ছিল শান্ত। এদিকে জোর করে প্রত্যাবাসন না করায় রোহিঙ্গা শিবিরের মসজিদগুলোয় গতকাল জুমার নামাজে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জোর করে প্রত্যাবাসন না করায় রোহিঙ্গারা সরকারপ্রধানকে ‘মা হাসিনা’ আখ্যা দিয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করেছেন।

গতকাল টেকনাফের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শিবিরের মসজিদ সিডাব্লিউটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা মসজিদটিতে জুমার নামাজ আদায় করে। মসজিদে জুমার নামাজের খুত্বায় মাওলানা ছৈয়দ আলম বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গারা নির্যাতিত জাতি। রাখাইনের সেনাদের নির্যাতনের মুখে আমরা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান আমাদের মানবিকতা দিয়ে আশ্রয় দিয়েছেন। এ জন্য আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
জুমার নামাজ শেষে দীর্ঘ মোনাজাতে মসজিদের হাফেজ আবদুল হাকিম জোর করে তাদের প্রত্যাবাসন না করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগের জন্য তাঁকে ‘মা হাসিনা’ আখ্যায়িত করে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এদিকে শিবিরগুলো গতকাল সকাল থেকে সম্পূর্ণ শান্ত ছিল। এর আগে প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া যেসব রোহিঙ্গা দেশে ফেরা এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছিল তারাও ক্যাম্পে ফিরে এসেছে। প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গারা শিবিরে বিক্ষোভও প্রদর্শন করেছিল। 

গতকাল উনচিপ্রাং শিবিরে নবী হোসেন নামের এক রোহিঙ্গা জানান, ‘আমরা অবশ্যই ফিরে যাব আমাদের দেশে। তবে আমরা ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে নাগরিকত্ব ঘোষণা নিয়েই ফিরতে চাই।’ তিনি বলেন, নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বললে তারা নিজেরাই স্বেচ্ছায় ফিরে যাবে নিজ  দেশে।



মন্তব্য