kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

এনসিটিতে গ্যান্ট্রি ক্রেনে কনটেইনার ওঠানামা শুরু

কম সময়ে বেশি জাহাজ ভিড়বে চট্টগ্রাম বন্দরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ১৩:১০



কম সময়ে বেশি জাহাজ ভিড়বে চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) পণ্য ওঠানামায় ব্যবহূত আধুনিক ‘কি গ্যান্ট্রি ক্রেন’। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) ১১ বছর পর যুক্ত করা হয়েছে পণ্য ওঠানামায় ব্যবহূত আধুনিক ছয়টি ‘কি গ্যান্ট্রি ক্রেন’। চলতি বছরের আগস্ট ও অক্টোবরে এসেছিল এই গ্যান্ট্রি ক্রেন; কিন্তু সচল করতে এত সময় লাগল। এনসিটির পাঁচটি জেটির মধ্যে তিনটিতে যুক্ত হয়েছে এই ছয় ক্রেন। বাকি জেটিতে আগামী বছর যুক্ত হবে আরো চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন।

এর মধ্যে এনসিটির ৫ নম্বর জেটিতে গতকাল শনিবার প্রথমবার ভেড়ানো হয়েছে ক্রেনবিহীন বা গিয়ারলেস জাহাজ ‘ব্রাইট’। সেই জাহাজ থেকে একসঙ্গে তিনটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করে পণ্য ওঠানামা শুরু হয়েছে; যা বন্দরের ইতিহাসে প্রথম। এর আগে একটি জেটিতে দুটি গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করে পণ্য ওঠানামা করা হতো এনসিটির পাশেই চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালে (সিসিটি)।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, এনসিটির পাঁচটি জেটির জন্য মোট ১০টি গ্যান্ট্রি ক্রেন কেনা হয়েছে; এর মধ্যে ছয়টি যুক্ত হয়েছে। ধারাবাহিক অগ্রগতির সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট সময়ে এই ক্রেন চালু করাটা ছিল আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং।’

তিনি বলেন, ‘একটি জেটিতে দুটি করে গ্যান্ট্রি ক্রেন লাগানোর সিদ্ধান্ত আছে আগে থেকেই। এখন তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে একটি জেটি পরিচালনার সুফল জানতে একটি স্টাডি চলছে। ইতিবাচক ফল পেলে আমরা সেদিকেই এগোব।’

জানা গেছে, গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে এনসিটির পণ্য ওঠানামা শুরু হওয়ায় বন্দর ব্যবহারকারীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। বন্দরে পণ্য ওঠানামার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এই গ্যান্ট্রি ক্রেন বেশ সুফল বয়ে আনবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সভাপতি মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, এটা অবশ্যই সুখের বিষয় যে ছয়টি গ্যান্ট্রি ক্রেন এরই মধ্যে যুক্ত ও চালু হয়েছে। বাকি ক্রেনগুলো নির্দিষ্ট সময়ে যোগ করে বন্দরের দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। ক্রেন যুক্ত হওয়ায় বাড়তি প্রবৃদ্ধি সামাল দেওয়া অনেক সহজ হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে সিসিটি টার্মিনাল গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে পুরোটাই সাইফ পাওয়ারটেক এবং এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা করছে সাইফ পাওয়ারটেক ও দুই সহযোগী। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ৬০ শতাংশ ওঠানামা করা হচ্ছে এ দুই টার্মিনালে। কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হলে এনসিটিতে প্রতি ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৩০ একক (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) কনটেইনার ওঠানামা করানো যাবে। বর্তমানে গ্যান্ট্রি ক্রেন ছাড়া ১৫ একক কনটেইনার ওঠানামা করা যাচ্ছে।

একটি জেটিতে তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করার বিষয়ে সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে বন্দরে জেটির ডিজাইন অনুযায়ী ১৬০-১৭০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভিড়ত; এখন ১৮৬-১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভিড়ছে। ফলে এক জেটিতে তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেন লাগালে জাহাজটি ৭২ ঘণ্টার চেয়েও কম সময়ে জেটি ত্যাগ করতে পারবে। বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমবে। এতে কম সময়ে বেশি জাহাজ ভিড়তে পারবে। বন্দরের রাজস্ব বাড়বে, ব্যবহারকারীদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে।’

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০৭ সালে বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল সর্বাধুনিক এনসিটি। ১০টি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করে ক্রেনবিহীন জাহাজ ভেড়ানো ছিল এর উদ্দেশ্য। কিন্তু গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করতেই সময় লাগল ১১ বছর।

এদিকে গতকাল শনিবার এনসিটির ৫ নম্বর জেটিতে ভেড়ানো হয়েছে ক্রেনবিহীন ব্রাইট জাহাজ। বিকেল থেকে ক্রেন লাগিয়ে কনটেইনার নামানো শুরু হয়েছে। বিদেশি জাহাজটির শিপিং এজেন্ট সি কনের ব্যবস্থাপক সাইফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাহাজটি আগে থেকে গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে সিসিটিতে ভিড়িয়ে কনটেইনার ওঠানামা করা হতো। তখন এক হাজার ২০০ একক কনটেইনার ওঠানামা করতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগত; এই প্রথম এনসিটিতে ভিড়ল। এবার কনটেইনার আছে মাত্র ৯৯২ একক; দেখা যাক তারা কত সময় নেয়।’



মন্তব্য