kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

রাঙ্গুনিয়ায় সিএনজি চালককে খুনের ঘটনায় মামলা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:৩৪



রাঙ্গুনিয়ায় সিএনজি চালককে খুনের ঘটনায় মামলা

রাঙ্গুনিয়ায় চোখে টর্চ লাইটের আলো ফেলার ঘটনায় ঝগড়া ও বাগবিতণ্ডার জের ধরে সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. আবদুস শুক্কুর খুনের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। নিহতের পিতা বাচা মিয়া বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় ঘটনার সাথে জড়িত একই পরিবারের মো. জাহেদ, মো. ইকবাল, তাদের বাবা মো. বাবুল মিয়া, মা ডেইজী বেগম, একই এলাকার লাল কাদেরের ছেলে মো. রাশেদকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সোনারগাঁও সাদেকের পাড়া এলাকায় আসামিরা এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে গ্রামের বাচা মিয়ার পুত্র সিএনজি অটোরিকশা চালক আবদুল শুক্কুরকে হত্যা করে। গত বুধবার রাতে নিহত আবদুস শুক্কুরের বড়ভাই বাপ্পীর চোখে প্রতিপক্ষ বাবুল কর্তৃক টর্চলাইটের আলো ফেলা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সাদেকের পাড়া গ্রামের বাচা মিয়ার পরিবারের সাথে প্রতিপক্ষ বাবুলের পরিবারের মামলা নিয়ে বিরোধ রয়েছে কয়েকবছর ধরে। বাবুলের পরিবারের দায়ের করা একটি মামলায় আদালত থেকে সম্প্রতি খালাস পান বাচা মিয়ার ছেলে বাপ্পী ও শুক্কুর। খালাস পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বাবুলের পরিবার। গত বুধবার রাতে বাচা মিয়ার পুত্র মো. বাপ্পী রাস্তার পাশে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময় দূর থেকে তার চোখে টর্চলাইটের আলো ফেলে অনেক্ষণ ধরে রাখেন প্রতিপক্ষের গৃহকর্তা বাবুল। এ সময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয়।

খবর পেয়ে বড় ভাই সিএনজি অটোরিকশা চালক আবুদুল শুক্কুর গিয়ে যোগ দেন ভাইয়ের পক্ষে। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারে যাবার পথে বাবুলের দুই পুত্র জাহেদ, ইকবাল ও তাদের মা ডেইজী আকতারসহ কয়েকজন মিলে আবদুল শুক্কুরকে এলোপাথাড়ি মারধর ও ছোরা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এতে তার শরীরে পেটের বাম পাশে, বুকে ও নাভির নিচে তিনটি গুরুতর ছুরিকাঘাত হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক  শুক্কুরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার বাদী বাচা মিয়া জানান, দুই বছর আগে বাবুলের ছেলে জাহেদ এর সাথে মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে ঝগড়া হলে তারা একটি মিথ্যা মামলা করেন আমার দুই ছেলের বিরুদ্ধে। মামলায় খালাস পাওয়ায় তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। বুধবার রাতে আমার ছেলে বাপ্পীর চোখে টর্চলাইটের আলো ফেলে একরকম গায়ে পড়ে নতুনভাবে ঝগড়া বাঁধায় বাবুল। এর জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা শুক্কুরকে কুপিয়ে খুন করেন।

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুনের ঘটনায় লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছেন বলে তিনি জানান।



মন্তব্য