kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সাগরপথে মানবপাচার

সেন্ট মার্টিনস উপকূলে ছয় দালালসহ ৩৯ রোহিঙ্গা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:৫৭



সেন্ট মার্টিনস উপকূলে ছয় দালালসহ ৩৯ রোহিঙ্গা আটক

সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টাকালে কক্সবাজারের টেকনাফে সেন্ট মার্টিনস দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে দালালসহ ৩৯ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। গতকাল বুধবার আটক হওয়া এসব রোহিঙ্গার মধ্যে রয়েছে ১০ জন নারী, ৯টি শিশু ও ১৪ জন পুরুষ। বাকি ছয়জন মানবপাচারচক্রের দালাল। এ নিয়ে গত দুই দিনে সাগরপথে পাচারের চেষ্টাকালে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের হাতে উদ্ধার হয়েছে ৪৭ রোহিঙ্গা। আটক করা হয়েছে মানবপাচারকারী ছয় দালালকে। 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর নির্ধারিত সময়সূচিকে সামনে নিয়ে শিবিরগুলোতে মানবপাচারকারী চক্রের ব্যাপক তত্পরতা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে তোড়জোড় চলছে রোহিঙ্গাদের বিদেশ পাড়ি জমানোর।

কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. ফয়েজুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফের সেন্ট মার্টিনস দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগর থেকে একটি ট্রলার থেকে ছয় দালালকে আটকসহ ৩৯ রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য, মানবপাচারকারীচক্র তাদের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার করছিল। এরা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক এবং উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় পাচারকারীরা থাইল্যান্ড সীমান্ত উল্লেখ করে ১৪ রোহিঙ্গাকে টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপে ঘোলার চরে নামিয়ে দেয়। পরে বিজিবি তাদের উদ্ধার করে।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর মুখে আশ্রয় শিবিরগুলোতে নতুন করে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে পাড়ি জমাতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে হঠাৎ ক্যাম্পভিত্তিক সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক দালালচক্র। ওরা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

জানা মতে, টেকনাফের সীমান্ত দিয়ে সাগরপথে ট্রলারে করে প্রথম মানবপাচার শুরু হয় ২০০৭ সালে। দালালচক্র অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার স্থানীয় ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে সাগরপথে ট্রলারযোগে মালয়েশিয়া পাচার করে। তবে সে সময় কিছু লোক মালয়েশিয়া পৌঁছলেও সাগরপথে ট্রলারডুবিতে বহু প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া টাকা আদায়ের নামে শত শত মানুষকে থাইল্যান্ডের গহিন জঙ্গলে আটকে রেখে পৈশাচিক নির্যাতনও চালায় মানবপাচারকারী চক্র। দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক নারী-পুরুষ।

টেকনাফ উপকূল দিয়ে সাগরপথে মানবপাচার ২০১৫ সাল পর্যন্তও চলমান ছিল। সে বছর টেকনাফ থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এলাকার শীর্ষ মানবপাচারকারী শাহ পরীর দ্বীপের ধলু হোছন, কাঁটাবনিয়ার জাহাঙ্গীর ও জাফর আলম নিহত হলে অন্য মানবপাচারকারীরা গা ঢাকা দেয়। মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক দালালের বিরুদ্ধে মামলাও হয় ওই সময়। এরপর মোটামুটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সাগরপথে মানবপাচার। পাচারকারী চক্রটি সম্প্রতি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।



মন্তব্য