kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

মায়ের সামনে কিশোরকে হত্যা করল বন্ধুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০২:৪৬



মায়ের সামনে কিশোরকে হত্যা করল বন্ধুরা

মায়ের কাকুতি-মিনতিও তাদের মন গলাতে পারেনি। তাঁর সামনেই কিশোর ছেলেকে তার বন্ধুরা পিটিয়ে এবং বৈদ্যুতিক তার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে হত্যা করেছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের কোনারপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোর মোহাম্মদ মামুন (১৪) কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটায় একটি রেস্তোরাঁয় বয় হিসেবে কাজ করত। 
জানা গেছে, গতকাল সকালে মামুন তার গ্রামের চার বন্ধুসহ পাশের জুমছড়ি গ্রামে বেড়াতে যায়। গত রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তার মা হাজেরা খাতুন জানান, একটি ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক নিয়ে তাঁর ছেলেসহ পাঁচজন ওই গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে ইভ টিজিংয়ের অভিযোগে তাদের ইজি বাইকসহ আটক করে স্থানীয় লোকজন। তবে কৌশলে মামুন পালিয়ে বাড়ি চলে আসে।

হাজেরা খাতুন জানান, জুমছড়ি গ্রামের লোকজন মামুনকে ধরে নিতে বলে তার বন্ধুদের। তা না হলে ইজি বাইক ফেরত দেবে না বলে জানায় তারা। তখন তাঁদের গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস, নবাব মিয়া, নুরুল হুদা ও ইজি বাইকচালক জাকের মামুনকে ধরে নিতে তাঁদের বাড়ি আসে। কিন্তু মামুন যেতে রাজি হয়নি। সে জন্য তাঁর সামনেই ছেলেকে তার বন্ধুরা বেদম মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে সহপাঠী জাকেরের ইজি বাইক গ্যারেজে নিয়ে যায় তারা। পেছন পেছন তিনিও ছুটে যান সেখানে।

হাজেরা জানান, মামুনকে গ্যারেজে ঢুকিয়ে তার বন্ধুরা আরো নির্যাতন করে। ছেলেকে ছেড়ে দিতে তিনি অনেক কাকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু তাদের মন গলেনি। একপর্যায়ে মামুন নেতিয়ে পড়লে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার বিদ্যুতের তার গায়ে লাগিয়ে দেয় তারা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যান তিনি। জরুরি বিভাগের চিকিত্সক নুরুদ্দিন পারভেজ মামুনকে পরীক্ষা করে জানান, তার মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনা শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হূদয়বিদারক। জড়িতরা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।’ 

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক লিটন বলেন, ‘হাসপাতালের কম্পাউন্ডে উত্তেজনার খবর পেয়ে আমি এখানে আসি। এখানে এসেই দেখি নির্যাতনের শিকার হওয়া কিশোর মামুনের লাশ।’ তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



মন্তব্য