kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ

অবশেষে চালু হল নতুন দুটি ট্রেন

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    

৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:৫৪



অবশেষে চালু হল নতুন দুটি ট্রেন

পটিয়া রেলস্টেশনে গতকাল সবুজ পতাকা উড়িয়ে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে নতুন ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে অবশেষে দুটি নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। গতকাল শনিবার পটিয়া রেলস্টেশনে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন পর নতুন ট্রেন পেয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১৬ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য মঈনুদ্দীন খান বাদল ও নজরুল ইসলাম চৌধুরী, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব তোফাজ্জেল হোসেন ও পরিচালক (জেনারেল) রবিউল আলম, রেলওয়ের জিএম সৈয়দ ফারুক আহমেদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল খালেক চেয়ারম্যান।

রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেন, ‘জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশজুড়ে ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রেলওয়ের নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমের পরিধি সারাদেশে বিস্তৃত হচ্ছে। অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে রেল বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিল। তারা এক দিনেই গোল্ডেন হেন্ডশেকের নামে ১৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রেল বিভাগ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল।’

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক করে নতুন রেল মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আজ এ মন্ত্রণালয়ের সুফল দেশবাসী পেতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকার রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য ৪৬টি নতুন ইঞ্জিন, ২৪০ কোচ বগি এবং আরো নতুন নতুন বগি আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচলে চুক্তির মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহরে দ্রুত যাতায়াতের জন্য বুলেট ও ইলেকট্রিক ট্রেন এবং পাতাল ট্রেন চালুর প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত সম্ভাব্যতা যাচাই জরিপও সম্পন্ন হয়েছে।’

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বন্ধ হওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে নূতন দুটি ট্রেন চালুর মাধ্যমে এ অঞ্চলে রেলযাত্রীদের দাবি পূরণ হল।’

তিনি এ রেললাইনকে কক্সবাজার এবং মিয়ানমারের ঘুমধুম পর্যন্ত সম্প্রসারণে চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনার জন্য পটিয়াসহ সর্বত্র নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-দোহাজারী একটি লাভজনক রেললাইন। এটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্রিটিশ আমলেই এ রেললাইনে ট্রেন চালু করেছিল ব্রিটিশ সরকার। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার এ লাইনের ট্রেনগুলো বন্ধ করে দেয়। আমি ন্যূনতম ৫০ বার রেলমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে এ লাইনে নতুন ট্রেন সার্ভিস দেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি। অবশেষে সেই ট্রেন আজ চালু হলো।’

তিনি স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীসহ সব মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ট্রেনের সময়সূচি সুবিধামতো সময়ে আনাসহ এ লাইনে আরো এক জোড়া নতুন ট্রেন চালুর দাবি জানান।

বোয়ালখালীর সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘এ লাইনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কালুরঘাট সেতু। এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে নতুন সেতু নির্মাণে ৯০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কোরিয়া সরকার ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। আমাদের সরকারকে দিতে হবে মাত্র ৩০০ কোটি টাকা। এটি মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু একনেকে কেন উঠেনি তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।’

তিনি অবিলম্বে জানমালের নিরাপত্তা বিধানে এ সেতু নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

চন্দনাইশের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নতুন করে এ ট্রেন চালু হওয়ায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৫০ সালের দিকে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনে ৬ জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে এ লাইনে লোকসানের অজুহাতে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে এক জোড়া ট্রেন চালু রাখা হয়। পরে এটি ২০০০ সালের ১ অক্টোবর বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। বছরখানেক পর ২০০২ সালে ১৫ জানুয়ারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৩ সাল থেকে এ লাইনে দোহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ফার্নেস তেলবাহী ওয়াগন ট্রেন চলাচল শুরু হয়। চালু আছে যাত্রীবাহী একটি ট্রেন। নতুন একজোড়া ট্রেন চালু হওয়ায় এখন যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা ৪টিতে দাঁড়ালো।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের আমলে পটিয়া ইন্দ্রপোল শিল্পাঞ্চলের পরিশোধিত লবণ পরিবহন করে পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় রাষ্ট্রীয়ভাবে গোল্ড মেডেল অর্জন করে। কিন্তু পরবর্তীতে এ ব্যাপারে উদ্যোগের অভাবে এ রেললাইনটি মুখ থুবড়ে পড়ে।

পটিয়া স্টেশনমাস্টার সনজিব দাশ জানান, চট্টগ্রাম-দোহাজারী শাখা লাইনে নতুন ১১১ নম্বর আপ নামে চালু হওয়া ট্রেন সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে ঝাউতলা, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক, ষোলশহর জংশন, জানআলী হাট, গোমদণ্ডী, বেঙ্গুরা, ধলঘাট, খানমোহনা পাড়ি দিয়ে পটিয়া পৌঁছবে ১২টা ৩৬ মিনিটে। এরপরে ট্রেনটি চক্রশালা, খরনা, কাঞ্চননগর, খানহাট, হাশিমপুর হয়ে দোহাজারীতে পৌঁছবে দুপুর ২টায়। বিকেল ৩টায় ট্রেনটি ১১২ নম্বর হয়ে ডাউন হিসেবে দোহাজারী থেকে ছেড়ে পটিয়া পৌঁছবে ৪টা ৩৬ মিনিটে। এতে একেক করে এটি আবারও ১৬টি স্টেশনে যাত্রী উঠানামা করে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টায়। এরপরে ১১৩ নম্বর হয়ে এটি আবার চট্টগ্রাম থেকে সন্ধ্যা ৭টায় রওনা দিয়ে পটিয়া পৌঁছবে ৮টা ৩৬ মিনিটে আর এটি দোহাজারী পৌঁছবে রাত ৯টায়। আবার ট্রেনটি ১১৪ নম্বর ডাউন হয়ে দোহাজারী থেকে পরদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছাড়বে। এটি পটিয়া পৌঁছাবে ৭টা ৫২ মিনিটে আর চট্টগ্রামে পৌঁছাবে ৯টা ৩০ মিনিটে। 



মন্তব্য