kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চসিকের ১২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প

চসিকের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় প্রকল্প

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০৪:২৬



চসিকের ১২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পেল প্রায় এক হাজার ২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প। ‘সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ’ প্রকল্প জিরো ম্যাচিং ফান্ডে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গতকাল বৃহস্পতিবারের সভায় এর অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৮ বছরের মধ্যে চসিকের এটিই সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এ প্রকল্পের অধীনে নগরের ৩৩২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও নির্মাণের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নগরে একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।

একনেক সভায় জিরো ম্যাচিং ফান্ডে চসিকের এক হাজার ২৩০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার প্রকল্প পাস হওয়ায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। টানা দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে যে উন্নয়ন কাজ করেছেন, তা অতীতের কোনো সরকার পারেনি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু চাইতে হয় না। তিনি নিজেই এক এক করে প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে চট্টগ্রামকে নিজের মতো করে সাজিয়ে তুলছেন প্রধানমন্ত্রী।

সিটি মেয়র আরো বলেন, এর ধারাবাহিকতায় আজ (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে বড় একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে এত বড় প্রকল্প আগে আর পায়নি। এ কারণে চট্টগ্রামবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার বিকল্প নেই।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, এ প্রকল্পের অধীনে ৩৩২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ করা হবে। এর মধ্যে ৯৮৩টি ছোট-মাঝারি সড়ক রয়েছে। কুলগাঁও এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটার জায়গার ওপর একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, অর্থ বরাদ্দ হলেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরে সড়ক যোগাযোগ আর অনুন্নত থাকবে না।

একই সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরের সড়ক যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, নগরের সব ওয়ার্ডে (৪১টি) যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নতিকরণের লক্ষ্যে গতকাল একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ম্যাচিং ফান্ড চসিকের বহনের শর্ত থাকলেও গতকাল অনুষ্ঠিত একনেক সভায় শতভাগ সরকারি অর্থায়নের জন্য সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি শতভাগ সরকারি সহায়তায় তা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও অংশ নেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও বাস-ট্রাক নির্মাণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৩০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। তিন অর্থবছরে ধারাবাহিক অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৮২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৯৬ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৫১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে।

জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৪১ ওয়ার্ডজুড়ে ৭৫৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৩২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হবে। ১৩৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৭টি সেতু নির্মাণ (অ্যাপ্রোচ রোডসহ) করা হবে। ১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১৫ মিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোডসহ কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

বাস-ট্রাক টার্মিনালের অবকাঠামো উন্নয়নে সাড়ে সাত কোটি টাকা, ড্রেনেজব্যবস্থাসহ ইয়ার্ড নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা, টার্মিনালের জন্য ৮ দশমিক ১০ একর ভূমি ক্রয় বাবদ ব্যয় হবে ২৬০ কোটি টাকা এবং টার্মিনালের জমির উন্নয়ন বাবদ তিন কোটি ৩৭ লাখ টাকা মিলিয়ে ব্যয় হবে এক হাজার ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বাকি ২৪ কোটি টাকা প্রকল্পের অনির্ধারিত খরচ নির্বাহে ব্যয় করা হবে।



মন্তব্য