kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ফের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ৩, আটক ১

পাঁচ হলে পুলিশের তল্লাশি, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:১২



ফের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ৩, আটক ১

ফের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক সংগঠন বিজয় ও সিএফসির গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনার শুরু।

পরে দফায় দফায় বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দুই পক্ষের এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় একজন ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ এবং দুই হলে ৩ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে অপর পক্ষের কর্মীরা মারধর করেছে বলে জানা গেছে।

এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ নিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পাঁচটি হলে তল্লাশি চালায়। এ সময় হলগুলোতে থেকে কিছু রামদা, পাথর, কাঁচের বোতল ও লাঠিসোঠা উদ্ধার করে পুলিশ। তল্লাশি চালানো হলগুলো শাহ আমানত, সোহরাওয়ার্দী, আলাওল, এ এফ রহমান ও শহীদ আব্দুর রব হল। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলে এবং সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা শাহ আমানত হলে অবস্থান নিয়েছিল এবং দুই হলের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিবাদমান দুটি গ্রুপই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সিএফসি গ্রুপের কয়েকজন কর্মী সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে আসতে চাইলে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে অবস্থান নিয়ে থাকা বিজয় গ্রুপের কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা তখন আমানত হলের উপর থেকে বিজয় গ্রুপের কর্মীদের উপর ইট পাথর ছুঁড়তে থাকে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ সময় বিজয় গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর জীবনকে পুলিশ আটক করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় আব্দুর রব হলের বিজয় গ্রুপের কর্মী আবির ও আকতারকে নামের দুইজনকে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা মারধর করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। অন্যদিকে এ এফ রহমান হলে সিএফসি গ্রুপের কর্মী ইয়াসিন রুবেল নামের একজনকে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা মারধর করে।

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা জামান নূর বলেন, বুধবারের ঘটনার পর সব শান্ত ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ওদের কিছু কর্মী উসকানি দিয়ে আবার ঝামেলার সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাটহাজারী সার্কেল আবদুল্লাহ আল মাসুম জানান, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় একজনকে আটক করা হয়েছে। সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, পাঁচটি হলে তল্লাশি চালিয়ে কিছু রামদা, লাঠিসোঠা, কাচের বোতল ও পাথর পাওয়া গেছে। বন্ধ রুমগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়নি। তল্লাশির উদ্দেশ্য ছিল বহিরাগত ও অছাত্র হলে অবস্থান করছে কিনা।

তিনি আরো বলেন, তল্লাশির সময় কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশকে বলা হয়েছে কেউ কোনো ধরনের বিবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।

উল্লেখ্য, বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়। সংঘর্ষে জড়ানো বিজয় গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চবি ছাত্রলীগর বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন ও সিএফসি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন একই কমিটির সহসভাপতি রেজাউল হক রুবেল।



মন্তব্য