kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

অন্তরঙ্গ ছবিতে বিয়ে ভাঙল কলেজছাত্রীর

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৪৪



অন্তরঙ্গ ছবিতে বিয়ে ভাঙল কলেজছাত্রীর

নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকার বাসিন্দা ফারজানা মিমি (ছদ্মনাম)। অনার্স পড়ুয়া মিমির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে প্রতিবেশী যুবক আবু হানিফের (ছদ্মনাম)। দুজন যখন চুটিয়ে প্রেম করছিলেন তখনই ঘটে ঘটনা। তবে বিপত্তি বাঁধে বিয়ের পর।

মিমি-হানিফের প্রেমের সময়টা ছিল উত্তাল। মোবাইল ফোনে আলাপ, ফেসবুকে চ্যাটিং এবং ডেটিংয়ে শারীরিক সম্পর্ক! প্রেমের উড়ন্ত সময়ে এবং শারীরিক সম্পর্কের সময় মোবাইল ফোনে তোলা ছবিগুলো এক পর্যায়ে ডেকে আনে চরম বিপত্তি।

দুজনের প্রেমের সময়ের মধ্যেই মিমির বিয়ের প্রস্তাব আসে। মিমির পরিবার বিয়েতে সম্মতিও দেয়। ওদিকে হানিফ তখনো বিয়ের জন্য প্রস্তুত নন। ফলে প্রেমিক-প্রেমিকা আলাপ-আলোচনা করে নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের ইতি টানেন।

প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে মিমি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন প্রকৌশলী রায়হানের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। কিন্তু নতুন দাম্পত্য জীবন শুরুর মুহূর্তেই হোঁচট খায় এই দম্পতি। প্রকৌশলী রায়হানের ইনবক্সে মিমির বেশ কিছু অন্তরঙ্গ ছবি পাঠিয়ে দেন হানিফ।

নতুন জীবনের শুরুতেই দাম্পত্য হোঁচট খেয়ে প্রকৌশলী-মিমি দুজন দুদিকে ছিটকে পড়ে। শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এরই মধ্যে হানিফ আরো কিছু ছবি পাঠান। এসব ছবি পাঠিয়ে প্রকৌশলী রায়হানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, রায়হানের সদ্যবিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে হানিফের শারীরিক সম্পর্ক ছিল। ফলশ্রুতিতে নতুন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে বিয়ে ভেঙে যায়। ডিভোর্স হয় ওই দম্পতির। সদ্য বিবাহিত মিমির বিয়ে ভেঙে গেল হানিফ ঝড়ে। শ্বশুরবাড়ি তো বটেই, নিজের বাড়ির সদস্যসহ আত্মীয়-স্বজনের কাছে সম্মান হারিয়ে স্মার্ট তরুণী মিমি হয়ে যান উপহাসের পাত্রী। ডিভোর্সি তরুণী মিমি নিজকে সামলে নেওয়ার আগেই পুনরায় মিমির ইনবক্সে যোগাযোগ শুরু করেন হানিফ। পুরনো প্রেমের সম্পর্ক নতুন করে শুরুর প্রস্তাব দিয়ে আরো জানিয়ে দেন, যদি তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হয়, তাহলে মিমির যেখানেই নতুন করে বিয়ে হবে, সেখানেই এসব ছবি পাঠিয়ে বিয়ে ভেঙে দেবে। ডিভোর্সি মিমিকে হানিফ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ‘আমি ছাড়া তোমার কোনো গতি নেই।’

হানিফ নতুন করে মিমিকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছে-এ কথা পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেন মিমি। সঙ্গে শর্তের কথাও। হানিফের এমন আচরণে পুরো পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। অথচ, বিয়ের আগেই মিমি হানিফের সঙ্গে কথা বলে নিজেদের সম্পর্কের ইতি টেনেছিলেন। সংসার ভেঙে দেওয়ায় অপমানিত মিমি নতুন করে হানিফের সঙ্গে সম্পর্ক শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ফলে মিমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

বিয়ে ভেঙে ঘরে ফেরা মেয়েটি আত্মহত্যার পথে যাচ্ছে দেখে পরিবারের সদস্যরা আরও অসহায় হয়ে পড়েন। গেল আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেন মিমির স্বজনরা।

অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কথা বলেন মিমির সঙ্গে। এর পর গোয়েন্দা কার্যালয়ে ধরে আনা হয় হানিফকে। জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে হানিফ পুরো বিষয়টি স্বীকার করতে চাননি। পরে গোয়েন্দাদের চাপের মুখে হানিফ নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করেন। হানিফ গোয়েন্দাদের জানান, মিমির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটানোর পরও তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মিমির প্রকৌশলী স্বামীর কাছে নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি পাঠিয়ে ভুল করেছেন। আবার মিমির সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নতুন করে সম্পর্ক শুরুর চেষ্টা এবং অন্য কোথায় বিয়ে হলে সেখানেও ছবি পাঠানোর হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অন্যায় হয়েছে মর্মেও স্বীকার করেন হানিফ।

দায়ী হানিফের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে হানিফের বিরুদ্ধে মামলার জন্য অভিযোগকারীপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু মিমির পরিবার সামাজিক মর্যাদাহানির পর মিমির আত্মহত্যার বিষয়টি বিবেচনা করে মামলার পথে হাঁটেননি। তাঁরা হানিফের পরিবারের সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসা করেন।

প্রেমিকের সঙ্গে স্পর্শকাতার ছবি তোলে বিপদে পড়া মিমির বিষয়টি মীমাংসার পর নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তোলা যাবে না। আবেগের তাড়নায় এমন ছবি ধারণ করা মানেই নিজেকে বিপদে ফেলার আয়োজন করা। তাই সবাইকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’



মন্তব্য