kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সীতাকুণ্ডে এক যুগেও সংস্কার হয়নি ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ

ভাঙা অংশে প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে ডুবছে ঘরবাড়ি, ফসল আজও জানে না পানি উন্নয়ন বোর্ড!

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ০২:৫৩



সীতাকুণ্ডে এক যুগেও সংস্কার হয়নি ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি সাগর উপকূলে ভেঙে যাওয়া আনুমানিক ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হয়নি গত এক যুগেও। ফলে ভাঙা ওই অংশ দিয়ে প্রতিদিন গৃহস্থ বাড়ি ও ফসলি জমিতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। এতে গ্রামবাসীর নিজ বাড়িঘরে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রকম ফসল ও খামারের ক্ষতি হওয়ায় লোকসান গুনছেন উদ্যোক্তারা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোড়ামরা পাক্কা মসজিদ এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উপকূলীয় বেড়িবাঁধটি প্রায় এক যুগ আগে ভেঙে সাগরে বিলীন হয়ে যায়। বিশেষত ২০০ মিটার বাঁধ একেবারে সমুদ্রপৃষ্ঠের সমতলে চলে আসায় ওই অংশ দিয়ে প্রতিদিনই জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে গ্রামের ঘরে ঘরে। আর বছরের পর বছর এভাবে ওই অংশ দিয়ে নিয়মিত পানি প্রবেশ করলেও অজ্ঞাত কারণে বাঁধের ওই অংশটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেননি কোনো জনপ্রতিনিধি কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

সরেজমিনে বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশে গিয়ে দেখা যায়, সোনাইছড়ির পাক্কা মসজিদ সাগর উপকূলে বেশ কয়েকটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে। যেখানে শিপইয়ার্ড আছে সেখানে ইয়ার্ডের নিজস্ব রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কারণে বাঁধের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু খালের পাশে কিছু অংশে কোনো ইয়ার্ড না থাকায় জায়গাটি খালি পড়ে আছে। আর অরক্ষিত ওই অংশটিই সাগরের পানির প্রবল আঘাতে ভেঙে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। কিন্তু ভেঙে পড়ার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা এটি মেরামতের জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিলেও এটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের হতাশা বাড়ছে।

ঘোড়ামরা এলাকার বাসিন্দা মইনুল হাসনাত রাহাত জানান, এখানে প্রায় ৪০০ একর জমির ফসল, জেলে সম্প্রদায়ের বাড়িঘরসহ এলাকার বেশ কিছু অংশ প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। 

দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থায় পড়ে থাকায় স্রোতের আঘাতে ভাঙন ক্রমশ বড় হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে কারোরই কোনো মাথাব্যথা নেই। রাহাত বলেন, বাঁধটি এখন এলাকাবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ’৯১-এর মতো যদি বড় কোনো ঘূর্ণিঝড় বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে তাহলে শুধু বাঁধটির কারণেই প্রচুর জানমালের ক্ষতি হবে বলে তিনি মনে করেন। ঘোড়ামরা এলাকার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন চক্রবাক ক্লাবের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সাজ্জাদ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আজাহার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বেড়িবাঁধটি ভেঙে যাওয়ার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিন জোয়ার-ভাটার সময় হিসাব করেই চলছে এ এলাকার জীবনযাত্রা। জোয়ারের সময় বাঁধের আশপাশের জেলেসহ অন্য বাসিন্দারা যে কত দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে তা না দেখলে কাউকে বোঝানো যাবে না।

সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির আহমেদ বলেন, বেড়িবাঁধটির ওই অংশটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সেখানে শিপইয়ার্ড না থাকায় জোয়ারের পানি সরাসরি আঘাত করছে। এ ছাড়া আশপাশের ইয়ার্ডে যখন জাহাজ আমদানি হয় তখন জাহাজের ঢেউয়ের আঘাত লাগছে এখানে। সব মিলিয়ে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। 

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আল মামুনের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি পাউবোর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।’

বাঁধটির বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার তারেক প্রতিবেদককে বলেন, ‘দুই-তিন শ মিটার আয়তনের একটি বাঁধ যে এত দিন ধরে ভাঙা পড়ে আছে তা আমি জানতাম না। এখন আপনার কাছ থেকে যখন জেনেছি, জায়গাটি পরিদর্শন করে অতি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেব আমি।’



মন্তব্য