kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে চট্টগ্রামে ফের অভিযোগ হাসপাতালের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০৩:০০



নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে চট্টগ্রামে ফের অভিযোগ হাসপাতালের বিরুদ্ধে

নগরের জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালে এক নবজাতক কন্যাশিশুর অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছে। প্রাথমিক অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিত্সকরা শিশুমৃত্যুর এ দায় অস্বীকার করেছেন।

গত ২৯ জুলাই রাতে নগরের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিত্সকের ‘অবহেলায়’ সমকাল সাংবাদিক রুবেল খানের শিশুকন্যা রাফিদা খান রাইফার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে গতকাল নগরের আন্দরকিল্লা এলাকায় জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল, যা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রতিক্রিয়া।

জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও বিএমএ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. শেখ শফিউল আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শোনার পর হাসপাতালে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছি। এখানে অবহেলার কিছু ছিল না। নবজাতক গর্ভাবস্থায় মিউকোনিয়াম সেবন করেছে। জন্মগ্রহণের পর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। তার পরও চিকিত্সকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন নবজাতককে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। আসলে মিউকোনিয়াম খেলে বাচ্চা বাঁচে না। তার পরও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, আমি হাসপাতালের চিফ মেডিক্যাল অফিসারকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। কমিটির প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যবসায়ী তৈয়ব সিদ্দিকী তাঁর স্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে ওই হাসপাতালের ৩৪২ নম্বর কেবিনে ভর্তি করান। এরপর সিজারিয়ানে শুক্রবার সকালে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়। এই দম্পতির এটিই ছিল প্রথম সন্তান। তৈয়বের বাড়ি  চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার খরণদ্বীপ এলাকায়।

তৈয়ব সিদ্দিকীকে শিশু জন্মের পর কর্তব্যরত চিকিত্সক জানান, শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, তাকে অক্সিজেন দিতে হবে। তবে অন্য কোনো জটিলতা নেই। মা ও মেয়ে দুজনেই সুস্থ আছে। শিশুটির বুকে একটু কফ আসছে বলে অক্সিজেন দেওয়া হয়। প্রেসক্রিপশনে চিকিত্সক লিখে দেন ‘অক্সিজেন চলবে’। 

তৈয়ব সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, সেবিকা অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ার কারণে শিশু মারা গেছে। রবিবার সকাল ৬টায় শিশু ওয়ার্ডে যে নার্স দায়িত্বে ছিলেন তিনি চলে যাওয়ার সময় অক্সিজেন খুলে দেন। এরপর শিশুর কষ্ট হচ্ছিল। তা চিকিত্সকদের জানানোর পর শিশুটিকে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক পর তারা জানায়, শিশু মারা গেছে।
জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গর্ভাবস্থায় শিশুটি মল খেয়ে ফেলায় তার ফুসফুসে মল ঢুকে গিয়েছিল। জন্মের পর থেকেই শিশুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এ কারণে স্পেশাল চাইল্ড কেয়ার ওয়ার্ডে রাখা হয়। এ ধরনের নবজাতক সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। অক্সিজেন সাপোর্টিং হিসেবে দেওয়া হয়। অক্সিজেন কি কাউকে সব সময় দিয়ে রাখা হয়? প্রয়োজনে দেওয়া হয়।

জানা যায়, নবজাতক মারা যাওয়ার পর গতকাল দুপুর ১২টার দিকে চিকিত্সক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে নবজাতকের স্বজনরা। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ‘দুঃখ’ প্রকাশ করে এবং ‘ক্ষমা’ চেয়েছে। কিন্তু বিষয়টি এখন অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার বিকেলে শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।



মন্তব্য