kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে সাংস্কৃতিক উৎসব

‘দেশীয় সংস্কৃতি বর্জন নয়, বরণ করা হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

২১ জুলাই, ২০১৮ ০১:৪৩



‘দেশীয় সংস্কৃতি বর্জন নয়, বরণ করা হচ্ছে’

আবহমান বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি চালু রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, দেশীয় সংস্কৃতি বর্জন নয়, বরণ করতে কাজ করছে সরকার।

গতকাল শুক্রবার নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নয়। সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন হতে হবে। এ জন্য সংস্কৃতির উন্নয়ন সবার আগে জরুরি। কারণ সুস্থ সংস্কৃতি লালন বা ধারণ করা ছাড়া উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আবুল মোমেন বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের বসবাস। এখানে আমরা সবাই নিজেকে এগিয়ে রাখতে চাই। ভালো লেখাপড়া করে ক্লাসে ফার্স্ট হতে চাই। সবার সেরা হতে চাই। কিন্তু এসব করতে গিয়ে আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠি। মনে হিংসা-বিদ্বেষ জন্ম নেয়।’ তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি এসব থেকে আমাদের দূরে রাখে। সংস্কৃতি সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলতে শেখায়। সামাজিক ও মানবিক হতে সাহায্য করে। সেরা হতে হলে শুধু শিক্ষার ওপর জোর দিলে হবে না। শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতি যুক্ত করতে হবে। সংস্কৃতিমনা হতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘সুস্থ সংস্কৃতিকে ধারণ করা মানুষ কোনো অপরাধ করতে পারে না। কাউকে খুন করতে পারে না। কিন্তু সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি আমাদের সত্তা নষ্ট করছে। এ জন্য অপসংস্কৃতি রোধ করা জরুরি।’ তিনি আরো বলেন, এখন গানের সুর, তাল, লয় বিকৃত করে ‘ফিউশনের’ নামে যা হচ্ছে তা সংস্কৃতিকে বিকৃত করারই নামান্তর। তিনি মনে করেন, এ কারণে তরুণ প্রজন্ম দেশীয় সংস্কৃতি জানছে না, তারা বিপথগামী হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই শিশুদের সুস্থ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে কাজ করছে। 

সাংবাদিক ফারুক তাহেরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সায়মা ইউনুস, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা ও জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মুসলিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোমিনুর রশিদ আমিন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. মমিনুর রশিদ, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আমিরুল কায়ছার প্রমুখ।



মন্তব্য