kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

শিশুকন্যা রাইফার মৃত্যু

'সিদ্ধান্ত' না হওয়ায় মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ১৮:৩৭



'সিদ্ধান্ত' না হওয়ায় মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ

ভুল চিকিৎসা, কর্তব্যে অবহেলা, গাফিলতি এবং আলামত নষ্টের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগরীর ম্যাক্স হাসপাতালের চারজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় অভিযোগ দাখিলের দ্বিতীয় দিনেও মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে চকবাজার থানায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান অভিযোগ দাখিল করেন। চকবাজার থানা পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। এই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে রুবেল খান জানিয়েছেন, মামলা রেকর্ড না হলে তিনি অনশন শুরু করবেন। 

মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়াটি ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের’ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ভিন্ন খবর বেরিয়েছে, রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের না করে আপসের উদ্যোগ নেওয়ার। চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন সাংবাদিক ও ডাক্তার নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে মামলা এড়িয়ে মীমাংশার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। তবে এমন তথ্যের বিষয়ে মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই দফা ফোন করা হলেও মেয়র অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া দেননি। ফলে তাঁর উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। আর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার বলেছেন, ‘আপসের উদ্যোগ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। মামলা ছাড়া অন্য কিছু বুঝি না।’ তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে মামলা এবং ন্যায় বিচারের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।’ 

অভিযোগ দাখিলের দ্বিতীয় দিনেও কেন মামলা রেকর্ড হয়নি? এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’ মামলা রেকর্ডের সিদ্ধান্ত নাকি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর সিদ্ধান্ত হলে সেটা সবাই জানতে পারবেন।’ 

তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে অভিযোগপত্র দিতে সাংবাদিকরা অনেক সময় নিয়েছেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পুলিশকে একটু সময় দিন, আমরা দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেব।’ সাংবাদিক-ডাক্তার নিয়ে মেয়রের সমঝোতামূলক বৈঠকের বিষয়ে পুলিশ অবগত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মেয়র মহোদয় উদ্যোগ নিতেই পারেন, তবে এর সঙ্গে মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্পর্ক নেই।’ 

অভিযোগ জমা দেওয়ার দ্বিতীয় দিনেও মামলা হিসেবে রেকর্ড না করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাংবাদিক রুবেল খান। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ মামলা রেকর্ড না করলে আমি অনশন শুরু করবো।’ 

রাইফার বাবা ও সমকাল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খান তাঁর অভিযোগে ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত, ডা. শুভ দেব এবং ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খানের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা, কর্তব্যে অবহেলা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

রুবেল খানের মেয়ে রাইফাকে গলা ব্যথাজনিত কারণে গত ২৮ জুন নগরের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ জুন রাতে আড়াই বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। এর থেকেই ভুল চিকিৎসায় রাইফার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে আন্দোলনে যান সাংবাদিকরা। এই আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষও একাত্মতা প্রকাশ করেন। 

আন্দোলনের মুখে রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন কার্যালয় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। সিভিল সার্জনের তদন্ত প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালে রাইফাকে ভর্তি করা থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি পদে পদে ভোগান্তি, অদক্ষ-অনভিজ্ঞ নার্স ও চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা, গাফিলতিকে দায়ী করা হয়। এ ছাড়া রাইফার চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসায় অবহেলারও অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।



মন্তব্য