kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে ঈদ জামাতে মুসল্লির ঢল, নারায়ণগঞ্জে শোকের আবহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০১৮ ০২:১৬



চট্টগ্রামে ঈদ জামাতে মুসল্লির ঢল, নারায়ণগঞ্জে শোকের আবহ

টানা তিন দিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে বৃষ্টি। ঈদের সকালেও নেমেছিল বৃষ্টির জলধারা। জলাবদ্ধতা আর বৃষ্টি পেরিয়ে শনিবার নগরীর প্রতিটি ঈদগাহে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যেন ঢল নেমেছিল। চারদিকে ছিল উত্সবমুখর পরিবেশ। এদিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা ঘটনার ১৭ বর্ষপূতি ছিল ঈদের দিন। এ ঘটনায় নিহত ২০ জনকে স্মরণ করে ঈদের দিন বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে। স্বজনসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে এদিন ছিল শোকের আবহ। অনেকেই ছুটেছে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা নিয়ে উদ্যাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের নামাজে প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও দুই দফা নামাজে এই ময়দানে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে। সকাল ৮টায় প্রথম ঈদ জামাতে ইমামতি করেন ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া ছুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা চট্টগ্রামের মুহাদ্দিছ আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরি।

এখানে ময়দান ছাপিয়ে দুই মূল ফটকের বাইরের সড়কে বসে অনেকে নামাজ আদায় করেছে। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ জমিয়াতুল ফালাহর হাফেজ মাওলানা আহমদুল হক। এখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে বসানো হয়েছিল। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পর মুসল্লিদের জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।

জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মো. নাসির উদ্দিন, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, নগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সোলায়মান আলম শেঠ প্রমুখ রাজনৈতিক নেতারা। তাঁরা পরস্পর কোলাকুলিসহ কুশলবিনিময় করেন।

চসিকের তত্ত্বাবধানে এ বছর নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে ১৬৬টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির তত্ত্বাবধানে ৮৯ স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন জিমনেশিয়াম হলে। এতে ইমামতি করেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হযরতুল আল্লামা ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান।

ওদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় নিহত ২০ জনকে স্মরণ করে ঈদের দিন চোখের জল ফেলেছে পরিবারের সদস্যরা। ঈদুল ফিতরের দিন বোমা হামলার ১৭তম বর্ষপূর্তি থাকায় নামাজ শেষে লোকজন ছুটে যান শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে রয়েছে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। খুশির দিনে অনেকেই ভেসেছে চোখের জলে।

২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ২০ জন নেতাকর্মী নিহত হয়। এসংক্রান্ত মামলার বিচার শেষ হয়নি ১৭ বছরে।



মন্তব্য