kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইনঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

চবির পরীক্ষার খাতা চুরি করে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০১৮ ০১:০২



চবির পরীক্ষার খাতা চুরি করে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইনঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তিনটি সেমিস্টার পরীক্ষার ১১ বান্ডেলের আনুমানিক ছয় শতাধিক খাতা চুরি করে পুড়িয়ে দেয় দৃর্বত্তরা। 

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইনঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে বিভাগের কর্মচারীরা অফিসে এসে তিনটি রুমের তালা কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ফ্যাকাল্টির বাহিরে পাহাড়ের ওপর পরিত্যাক্ত অবস্থায়ও কিছু খাতা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ অছিয়র রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই বিভাগে আগে অনেক সেশনজট ছিল। সেখান থেকে বের হয়ে আমরা একই সঙ্গে সকল বর্ষের পরীক্ষা ও ফলাফল দিতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাতে অফিস রুম, সভাপতির রুম এবং স্টোর রুমের তিনটি তালা কেটে ৩য়, ৫ম ও ৭ম সেমিস্টারের ৯টি কোর্সের ১১ বান্ডেল খাতা চুরি করে পুড়িয়ে দেয় দৃর্বত্তরা। এগুলো সেশনজট বাড়ানোর জন্যই করা হয়েছে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র কালের কণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটহাজারি পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ দিকে এ ঘটনায় জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে চবি সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র ও সদস্য হেলাল উদ্দিন আহম্মদকে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্ত কমিটি বুধবার শেষ সময়ে গঠিত হওয়ায় চিঠি এখনও হাতে পায়নি। চিঠি পেলে কাজ শুরু করব।

জানা যায়, সকালে বিভাগের কর্মচারীরা এসে তিনটি রুমের দরজা খোলা দেখতে পায়। স্টোর রুম, চেয়ারম্যান কক্ষ, অফিস কক্ষের তালা খুজে পাওয়া পাওযা যায়নি। পরে ফ্যাকাল্টির পাশে জঙ্গলে পরিত্যাক্ত অবস্থায়ও কিছু খাতা খুঁজে পাওয়া যায়। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার (১৫ মে) অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষার খাতাও ছিল বলে জানান বিভাগ সংশ্লিষ্টরা।

তাছাড়া ফ্যাকাল্টির ছাদের ওপর বেশ কিছু খাতা আগুনে পোড়া অবস্থায় দেখা যায়। বিভাগের সংশ্লিষ্টদের দাবি, মূলত বিভাগের পরীক্ষা সংক্রান্ত জিনিস বিশেষ করে পরীক্ষার খাতা, প্রশ্নপত্র চুরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

বিভাগীয় সংশিষ্ট সূত্র জানায়, বিভাগের সেমিনার কক্ষের তিনটি দরজার মধ্যে মূল দরজাটি ছিলো ভিতর থেকে বন্ধ। বাকী দুটি দরজা ভাঙ্গা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঐ দুই দরজা দিয়ে অনুষদের ছাদে যাতায়াত করা যায়। তাই ধারণা করা হচ্ছে ঐ সেমিনার কক্ষে আগে থেকেই আড়ি পেতেছিল দৃর্বত্তরা।

অন্যদিকে ঘটনার পরে সিসিটিভির ফুটেজ চেক করে দেখা যায় মঙ্গলবার রাত ১২টা ৫৫ সেকেন্ডের পরে আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। দৃর্বত্তরা ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এ খাতা চুরি করে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, যেহেতু প্রতিটি বর্ষের পরীক্ষা একই সঙ্গে হচ্ছিলো সে কারণে হয়তো কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষা খারাপ হয়েছে সে কারণে পরীক্ষার খাতা নষ্ট করার জন্য এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। না হয় কোনো কোর্সের প্রশ্ন নেওয়ার জন্য। অবশ্যই কোনো শিক্ষার্থীদের দ্ধারা এ চুরির ঘটনা করা হয়েছে। এর জন্য সঠিকভাবে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনা মৌখিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগপত্র পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 



মন্তব্য