kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সীতাকুণ্ড

‘গাড়িতে ক্লান্ত চালকদের ঘুমে মহাসড়কে যানজট’

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১৪ মে, ২০১৮ ০২:৫৬



‘গাড়িতে ক্লান্ত চালকদের ঘুমে মহাসড়কে যানজট’

হাইওয়ে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা সত্ত্বেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার দিনেও যানজটমুক্ত হয়নি। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কের ফেনী থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট ছিল। পরে যানজট কিছুটা কমে মিরসরাই-ফেনী এলাকায় স্থিত হয়। যানজটে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগ পোহায়।

সীতাকুণ্ডের কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদুল আলম জানান, শনিবার দুপুর থেকে সীতাকুণ্ড অংশ যানজটমুক্ত ছিল। কিন্তু রাত ১০টার পর যানজট বেড়ে সীতাকুণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। চালকরা গাড়িতে ঘুমিয়ে থাকায় এ যানজট লেগে থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, একজন চালক গাড়িতে ঘুমালে পেছনের গাড়ি চালকরা মনে করে সামনে যানজট। তাতে তাদের মধ্যেও কেউ কেউ ঘুমায়। এ কারণে যানজট এত তীব্রতর হয়েছে। সকাল ৯টাতেও যানজট ছিল। 

সীতাকুণ্ড পৌর সদরের দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আল-আমিন বলেন, সকাল ১০টার পর যানবাহন ধীরে ধীরে চলতে শুরু করলে সড়কের এ অংশ যানজটমুক্ত হয়। তবে মিরসরাই-ফেনীর দিকে যানজট বেশি সময় স্থায়ী হলে তা আবার ছড়িয়ে পড়ে এদিকে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করেন সীতাকুণ্ড-মিরসরাই সীমান্ত এলাকার বড় দারোগারহাটে দায়িত্বরত সীতাকুণ্ড জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিক আহমেদ মজুমদার।

মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের মতো গতকালও (সকাল সাড়ে ৮টা) ফেনীর যানজট কুমিরা এলাকা ছাড়িয়ে বারআউলিয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হওয়ায় হাজার হাজার গাড়ি সড়কে আটকে পড়েছে। পণ্যবাহী গাড়ির সংখ্যাই বেশি। শুকলালহাট এলাকায় একটি পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো. আবুল মুনছুর বলেন, ‘কয়েক দিন প্রচণ্ড যানজট হওয়ায় গাড়ি নিয়ে বের হইনি। কিন্তু প্রতিদিন ঘরে বসে থাকলে তো সংসার চলবে না। এর মধ্যে গাড়ির মালিক সিলেটে যাওয়ার ভাড়া পেয়ে গাড়ি বের করতে চাপাচাপি করায় ভোর ৫টায় চট্টগ্রামের সাগরিকা থেকে লোহার প্লেট নিয়ে রওনা দিয়েছি। কিন্তু কুমিরায় এসে যানজটে পড়ি। সেই থেকে তিন ঘণ্টারও বেশি সময়ে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পেরেছি। কখন যানজট থেকে রেহায় মিলবে!’ 

এই ট্রাকের পেছনেই ছিল স্টারলাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস। বাসটির যাত্রী আইরিন আক্তার বলেন, ‘চট্টগ্রামের ওমেন কলেজে পড়ার কারণে হোস্টেলে থাকি। বাড়িতে মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শুনে নিজ বাড়ি ফেনীর মহিপালের উদ্দেশে গাড়িতে উঠেছি। কিন্তু গাড়ি আর চলছে না! এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কী করে টানা এত দিন যানজটের কবলে থাকতে পারে!’ একই বাসের যাত্রী গার্মেন্ট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বৃদ্ধ মাকে জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে তিন ঘণ্টায়ও সীতাকুণ্ড পেরোতে পারলাম না। অথচ আগে চার ঘণ্টায় ঢাকাতেই পৌঁছে যেতাম। শুনেছি মিরসরাই থেকে ফেনী এলাকায় আরো বেশি যানজট। মা যানজটে বসে থেকে অসুস্থ বোধ করছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কী করছেন? কেন এক সপ্তাহেও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক যানজটমুক্ত করা গেল না, নাগরিক হিসেবে এটা জানার অধিকার আমাদের আছে।’ 

এভাবে কয়েক দিনের যানজটে নাকাল মহাসড়কের অনেক যাত্রীই এখন সড়কপথ থেকে মুখ ফিরিয়ে ট্রেনে যাতায়াতের চেষ্টা করছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকায় সেখানেও যাতায়াত করা যাচ্ছে না।



মন্তব্য