kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে তীব্র যানজট

না খেয়ে দিন পার যাত্রীদের

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৪ মে, ২০১৮ ০২:৩৫



না খেয়ে দিন পার যাত্রীদের

চট্টগ্রাম নগরের অলংকার এলাকায় গতকাল রবিবার দুপুর ২টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে আসে ঈগল পরিবহনের একটি বাস। বাসটির যাত্রী জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে বাস ছাড়ে। রাত ২টায় ঢাকার গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়লেও দাউদকান্দি, মেঘনা, কাঁচপুর, ফেনী, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে যানজটে পড়ে। ফলে ঢাকা থেকে সাত ঘণ্টা দেরি (বেশি লেগেছে) হয়েছে এখানে (নগর) আসতে।’

গাড়ির চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে যানজটের কারণে কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ভেতরের রোডগুলোতে গাড়ি চালিয়ে ফেনী দিয়ে মহাসড়কে উঠি। এর পরও ৯-১০ ঘণ্টা সময় বেশি লেগেছে। ভেতরের রোড দিয়ে না আসলে আরো ছয়-সাত ঘণ্টা বেশি সময় লাগত।’

এদিকে বিকেল ৩টায় কর্নেল হাট এলাকায় নোয়াখালী থেকে আসা একটি বাসের যাত্রী ফাতেমা বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় গাড়িতে উঠেছিলাম। অন্য সময় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে বাড়ি থেকে এখানে আসতে। আজকে (রবিবার) লেগেছে সাত ঘণ্টা।’

গতকাল দুপুর ১২টায় নগরের জিইসি মোড়ে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, ঢাকার গাবতলী থেকে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে তাঁরা চট্টগ্রাম আসছিলেন। যানজটের কারণে মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক দিয়ে আসার পরও তাঁদের সময় লেগেছে ১৭ ঘণ্টা। মাইক্রোবাসটির যাত্রী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গাড়িতে ওঠার আগে নাশতা করেছি। রাতভর কিছু খেতে পারিনি। দীর্ঘ সময় সড়কে ছিলাম। ঘুমাতে পারিনি। এখন নাশতা করব।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এভাবে গতকালও হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হয়েছে।

এদিকে গতকাল চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, খাগড়াছড়ির বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক দিয়ে নোয়াখালী হয়ে ফেনী এলাকায় মহাসড়কে ওঠে অনেক গাড়ি চলাচল করেছে যানজটের কারণে। কিন্তু এসব সড়কেও যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার অন্যান্য গন্তব্যের যানবাহনও দীর্ঘ সময়  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়ে। তবে গতকাল দুপুরের পর থেকে সীতাকুণ্ড এলাকায় যানজটের মাত্রা কিছুটা কমে আসে। 

নগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন কাউন্টারগুলোতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, প্রচণ্ড যানজটের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চলাচল গত কয়েক দিনে অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। অনেক গাড়ি মাঝপথে আটকা পড়েছে। যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না। যাত্রীরাও খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এ সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে গন্তব্যে খুব একটা যাচ্ছে না।

বিভিন্ন কাউন্টার ও বাসস্টেশনে গিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, মহাসড়কে গাড়ি একটানা বন্ধ ছিল না। তাই যানজটের সময় গাড়ি থেকে নেমে দোকান থেকে খাবার কেনার তেমন সুযোগ ছিল না। রাতে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। নির্জন এলাকা। সেখানে গাড়ি ছাড়া রাস্তা ও আশাপাশে মানুষ দেখা যায়নি। তাই তারা অর্ধাহারে-অনাহারে ছিল। বিলাসবহুল গাড়িগুলোতে শৌচাগারের ব্যবস্থা আছে। সাধারণ গণপরিবহনের যাত্রীরা বিশেষ করে নারী-শিশুরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। দিনেও না খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে থেকেছে হাজার হাজার যাত্রী।

শ্যামলী পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার বাবুল আহমেদ গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আমাদের প্রায় ৩৫টি গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু যানজটের কারণে গাড়ি কমতে কমতে আজকে চলছে ১০-১২টি। একই অবস্থা অন্য পরিবহনগুলোরও। যাত্রী কম। আমরা শুধু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি তা নয়, যাত্রীরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘সড়ক বিভাগ কুমিল্লা জোনের অপরিপক্বতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া যানবাহনগুলো জটে পড়েছিল বেশি। গতকাল (শনিবার) ও আজ (রবিবার) চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী যানবাহনগুলোর গড়ে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা দেরি হচ্ছে। আমি আজকে ঢাকায় আসার সময় অনেক জায়গায় যানজটে পড়েছি। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশকে কাজ করতে দেখা যায়নি। চট্টগ্রাম থেকে অনেক গাড়ি ফেনী পর্যন্ত আসছে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সড়ক দিয়ে।’



মন্তব্য